ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে কামড়, মাঝ আকাশেই আতঙ্কে যাত্রীরা

মাঝ আকাশে হঠাৎই এক যাত্রীর অস্বাভাবিক আচরণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো উড়োজাহাজে

অস্ট্রেলিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রগামী একটি দীর্ঘপাল্লার ফ্লাইটে ঘটে গেল এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। মাঝ আকাশে হঠাৎই এক যাত্রীর অস্বাভাবিক আচরণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো উড়োজাহাজে। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে শেষ পর্যন্ত জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয় উড়োজাহাজটি। আর এই পুরো ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন এক যাত্রী, যিনি ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে কামড়ে দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন।

ঘटनাটি ঘটেছে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিমান সংস্থা কান্টাসের কিউএফ২১ ফ্লাইটে। গত শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটায় ফ্লাইটটি অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। দীর্ঘ প্রায় ১৬ ঘণ্টার এই যাত্রা শুরুতে স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। যাত্রীরা নিজেদের মতো সময় কাটাচ্ছিলেন, কেবিন ক্রুরাও নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছিলেন। কিন্তু উড্ডয়নের প্রায় সাত ঘণ্টা পর আচমকাই পরিস্থিতি পাল্টে যায়।

অভিযোগ অনুযায়ী, এক যাত্রী হঠাৎ করেই উড়োজাহাজের ভেতরে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন। তিনি কেবিন ক্রুদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে তিনি আরও ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েন। পরে অভিযোগ ওঠে, তিনি এক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে কামড়ে দেন। এতে কেবিনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্য যাত্রীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়।

কান্টাসের এক মুখপাত্র জানান, যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, ফ্লাইটে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল, আক্রমণাত্মক বা হুমকিমূলক আচরণ মোটেও সহ্য করা হবে না। ঘটনার সময় অন্যান্য যাত্রী ও কেবিন ক্রুরা আক্রান্ত ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসেন।

ঘটনার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি প্রকাশ করেন অস্ট্রেলিয়ার কৌতুকশিল্পী মাইক গোল্ডস্টেইন। সেখানে দেখা যায়, অভিযুক্ত যাত্রী কেবিন ক্রুদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন। কেবিন ক্রুরা তাঁকে উড়োজাহাজের পেছনের দিকে যেতে বললেও তিনি অশালীন ভাষায় উত্তর দিচ্ছিলেন।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ওই ব্যক্তি করিডরে দাঁড়িয়ে টলতে টলতে কথা বলছেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, তিনি নাকি “একটা সিগারেট খেতে বাইরে যেতে” চেয়েছিলেন। তাঁর এই মন্তব্য শুনে অনেকেই বিস্মিত হন। জবাবে কেবিন ক্রুরা তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং জানান, তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করছেন। তবে ভিডিওতে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে কামড় দেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়নি।

পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠলে পাইলট নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন। এরপর উড়োজাহাজটি ফরাসি পলিনেশিয়ার রাজধানী পাপিতেতে অবতরণ করে। সেখানে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উড়োজাহাজে উঠে অভিযুক্ত যাত্রীকে নামিয়ে নিয়ে যান।

কান্টাস পরে এক বিবৃতিতে জানায়, অভিযুক্ত ওই যাত্রীকে ভবিষ্যতে আর কখনো কান্টাস কিংবা তাদের সহযোগী সংস্থা জেটস্টারের কোনো ফ্লাইটে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হবে না।

প্রায় ৩৫ মিনিট পাপিতেতে অবস্থানের পর ফ্লাইটটি আবার ডালাসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। পরে শনিবার সকালে সেটি নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছায়।

এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, আকাশপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমান সংস্থাগুলো কতটা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে এটি দেখাল, একজন যাত্রীর বেপরোয়া আচরণ কীভাবে শত শত মানুষের যাত্রাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.