বৈশ্বিক বিমান শিল্পে নতুন মাইলফলক: এমিরেটসের মেগা প্রকল্প শুরু
দুবাইয়ে ৫ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক বিমান রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রকৌশল কমপ্লেক্স নির্মাণ
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ৫ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক বিমান রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রকৌশল কমপ্লেক্স নির্মাণ শুরু করেছে এমিরেটস। দুবাই সাউথ এলাকায় গড়ে ওঠা এই বিশাল প্রকল্পটি ভবিষ্যতের বৈশ্বিক বিমান চলাচল শিল্পে দুবাই ও এমিরেটসের নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন এই প্রকৌশল কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ বাস্তবায়ন করছে চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশন এবং প্রকল্প পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে আর্টেলিয়া।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এমিরেটস এয়ারলাইন অ্যান্ড গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী শেখ আহমেদ বিন সাঈদ আল মাকতুম, এমিরেটস এয়ারলাইনের প্রেসিডেন্ট স্যার টিম ক্লার্ক, দুবাই এভিয়েশন সিটি করপোরেশন ও দুবাই সাউথের নির্বাহী চেয়ারম্যান খলিফা আল জাফিন এবং চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের চেয়ারম্যান দাই হেগেন।
শেখ আহমেদ বিন সাঈদ আল মাকতুম বলেন, এই প্রকল্প দুবাইয়ের ভবিষ্যতমুখী বিমান চলাচল পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নতুন এই সুবিধা এমিরেটস ইঞ্জিনিয়ারিংকে আরও দক্ষ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলবে। একই সঙ্গে এটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিমান শিল্পের জন্য কৌশলগত প্রকৌশল অংশীদার হিসেবে এমিরেটসের অবস্থান শক্তিশালী করবে।
বিশ্বমানের এই স্থাপনাটি প্রায় ১১ লাখ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে নির্মিত হবে। এটি আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম স্থাপনাগুলোর একটি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের সবচেয়ে বড় স্টিল কাঠামো হিসেবে পরিচিত হবে। এখানে একই সময়ে ২৮টি প্রশস্ত দেহবিশিষ্ট উড়োজাহাজ এবং দুটি রঙ করার হ্যাঙ্গারে কাজ করা যাবে।
প্রকল্পটির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফ্রি-স্প্যান হ্যাঙ্গার, বিশাল ল্যান্ডিং গিয়ার কর্মশালা, ৭৭ হাজার বর্গমিটার মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ এলাকা এবং ৩ লাখ ৮০ হাজার বর্গমিটার স্টোরেজ ও লজিস্টিকস সুবিধা। এছাড়া থাকবে অত্যাধুনিক প্রশাসনিক ভবন, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং আলাদা এয়ারসাইড প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।
টেকসই অবকাঠামো গড়ে তুলতে পুরো প্রকল্পে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। সব ভবনের জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এলইইডি প্লাটিনাম মান অর্জনের। কমপ্লেক্সের ছাদজুড়ে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেলও স্থাপন করা হবে।
এমিরেটস জানিয়েছে, ২০৩০ সালের মাঝামাঝি সময়ে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আশা করা হচ্ছে। এরপর নতুন এই কমপ্লেক্সে ভারী রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন প্রকৌশল কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
