নিউইয়র্ক রুটে এমিরেটসকে বড় প্রস্তাব দিল ইসরায়েল

ইসরায়েল আমিরাতের জাতীয় বিমান সংস্থা এমিরেটসকে তেল আবিব থেকে সরাসরি নিউইয়র্কে ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছে

ইসরায়েল আমিরাতের জাতীয় বিমান সংস্থা এমিরেটসকে তেল আবিব থেকে সরাসরি নিউইয়র্কে ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে এটি শুধু বিমান চলাচলেই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেবে। তবে এই উদ্যোগ কার্যকর হতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

২০২০ সালের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর এটিকে সবচেয়ে বড় বিমান চলাচল উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে তেল আবিব-নিউইয়র্ক রুটে যুক্তরাষ্ট্রের বড় এয়ারলাইন্সগুলোর দীর্ঘদিনের সেবা স্থগিত থাকায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। এখন এই রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে কেবল ইসরায়েলের এল আল ও আরকিয়া এয়ারলাইন্স। ফলে টিকিটের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।

ইসরায়েলের প্রস্তাব অনুযায়ী এমিরেটস শুধু তেল আবিব-নিউইয়র্ক নয়, তেল আবিব-ব্যাংকক রুটেও সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ পাবে। বর্তমানে এমিরেটস কিছু “ফিফথ ফ্রিডম” ফ্লাইট পরিচালনা করে, যেখানে একটি তৃতীয় দেশে যাত্রাবিরতির সুযোগ থাকে। তবে ইসরায়েলের এই নতুন প্রস্তাব “সেভেন্থ ফ্রিডম” সুবিধার আওতায় পড়বে, অর্থাৎ দুবাই সংযোগ ছাড়াই সরাসরি তেল আবিব থেকে নিউইয়র্কে যাত্রী পরিবহন করা যাবে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর এমিরেটস ইসরায়েলে ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়। তবে তাদের সহযোগী সংস্থা ফ্লাই দুবাই এবং আবুধাবির ইতিহাদ এয়ারওয়েজ পুরো সময়জুড়ে ইসরায়েলে ফ্লাইট চালু রেখেছে। একই সময়ে বহু মার্কিন ও ইউরোপীয় এয়ারলাইন্স নিরাপত্তা উদ্বেগে ইসরায়েল রুট বন্ধ রেখেছিল।

ইসরায়েলের ভ্রমণ ও পর্যটন খাতের প্রতিনিধিরা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এমিরেটসের মতো শক্তিশালী আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স যুক্ত হলে যাত্রীদের জন্য প্রতিযোগিতা বাড়বে, ভাড়া কমবে এবং দীর্ঘদিনের সংকট কিছুটা লাঘব হবে। একই সঙ্গে এটি আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের বাস্তব সুফলও তুলে ধরবে।

এদিকে প্রস্তাবের অংশ হিসেবে ফ্লাই দুবাইকেও ইসরায়েলের পর্যটন শহর ইলাতে ইউরোপগামী ফ্লাইটের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এমিরেটস এত দ্রুত তেল আবিবে ফিরতে আগ্রহী নাও হতে পারে। তারপরও এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের বিমান চলাচল খাতে এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.