বিমানবন্দরে না গিয়ে গোপন আস্তানায় পৌঁছায় জেট ফুয়েল
অভিযানে বেরিয়ে এসেছে জেট ফুয়েল চোরাচালানের চাঞ্চল্যকর তথ্য
চট্টগ্রামে কোস্টগার্ডের অভিযানে বিপুল পরিমাণ চোরাই জ্বালানি তেল উদ্ধার হয়েছে। অভিযানে বেরিয়ে এসেছে জেট ফুয়েল চোরাচালানের চাঞ্চল্যকর তথ্য। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরবরাহের জন্য নেওয়া জেট ফুয়েল গন্তব্যে না গিয়ে পৌঁছে যায় চোরাকারবারিদের গোপন আস্তানায়। সেখানে সুইমিংপুলের আদলে তৈরি বিশেষ স্থাপনায় সংরক্ষণ করা হচ্ছিল চোরাই জেট ফুয়েল। পাশাপাশি বিভিন্ন ড্রামে রাখা ছিল ডিজেল ও অকটেন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এসব তথ্য জানান। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন কোস্টগার্ডের সিগন্যাল কমিউনিকেশন অফিসার লেফটেন্যান্ট হাসিব-উল-ইসলাম।
তিনি জানান, সোমবার দিবাগত রাতে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানার ভিআইপি রোড সংলগ্ন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালায় কোস্টগার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গা। অভিযানে অবৈধভাবে মজুদ করা একটি তেলের গোপন আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ২৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের সাত হাজার লিটার জেট ফুয়েল, ছয় হাজার লিটার ডিজেল, দেড় হাজার লিটার অকটেন এবং তেল পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ট্রাক জব্দ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) অধীন একটি জ্বালানি বিপণন কোম্পানির ডিপো থেকে ট্যাংকলরিতে করে জেট ফুয়েল নেওয়া হয়েছিল শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরবরাহের উদ্দেশ্যে। তবে নির্ধারিত স্থানে না গিয়ে সেটি চোরাকারবারিদের কাছে পৌঁছে যায়। সেখানে ছোট সুইমিংপুলের মতো কাঠামো তৈরি করে জেট ফুয়েল সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। একই স্থানে ড্রামভর্তি অবস্থায় পাওয়া যায় বিপুল পরিমাণ ডিজেল ও অকটেন।
একই রাতে চট্টগ্রামের ইপিজেড থানার আকমলআলী সুইচ গেইট এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযান চালায় কোস্টগার্ড। সেখানে জাহাজ থেকে অবৈধভাবে খালাস করা প্রায় পাঁচ হাজার লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় নয় লাখ টাকা।
কোস্টগার্ড জানিয়েছে, অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে মূলহোতাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। প্রয়োজনে অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে জেট ফুয়েল চুরির চেষ্টার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পদ্মা অয়েল পিএলসি ও বিপিসি। একই সঙ্গে চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তারা হলেন পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপক সোহেল ইদ্রিস, চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তা মিল্টন রায়, কর্মী মো. ইদ্রিস এবং ট্যাংকলরির চালক মো. জসিম উদ্দিন।
