জ্বালানি সংকটে কানাডা-ভারত রুটে ফ্লাইট কমাচ্ছে এয়ার ইন্ডিয়া

জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বগতির কারণে কানাডা ও ভারতের মধ্যে একাধিক ফ্লাইট কমানোর ঘোষণা

জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বগতির কারণে কানাডা ও ভারতের মধ্যে একাধিক ফ্লাইট কমানোর ঘোষণা দিয়েছে টাটা গ্রুপের মালিকানাধীন এয়ার ইন্ডিয়া। এই সিদ্ধান্তের ফলে টরন্টো, ভ্যাঙ্কুভার ও দিল্লির মধ্যে ভ্রমণকারীদের জন্য ফ্লাইটের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, একই সঙ্গে বাড়ছে বিমান ভাড়াও। ফলে দুই দেশের মধ্যে পর্যটন, পারিবারিক ভ্রমণ এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এয়ার ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, টরন্টো পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মধ্যে মে মাসে রাউন্ড-ট্রিপ ফ্লাইটের সংখ্যা ৪৮ থেকে কমে ৩১-এ নেমে এসেছে। অর্থাৎ মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে এই রুটে প্রায় ৩৫ শতাংশ সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে ভ্যাঙ্কুভার-দিল্লি রুটেও দৈনিক ফ্লাইট কমিয়ে সপ্তাহে প্রায় পাঁচটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে।

এয়ার ইন্ডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাম্পবেল উইলসন জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধি, আকাশপথে বিধিনিষেধ এবং দীর্ঘতর রুটে পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অলাভজনক হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে, যা দীর্ঘপাল্লার ফ্লাইট পরিচালনাকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলেছে।

পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে না পারায় ভারত-উত্তর আমেরিকা রুটের অনেক ফ্লাইটকে বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এর ফলে জ্বালানি খরচ এবং উড়োজাহাজ পরিচালনার ব্যয় আরও বেড়েছে। এসব কারণ বিবেচনায় নিয়ে জুন ও জুলাই মাসেও অতিরিক্ত ফ্লাইট কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া।

ফ্লাইট কমে যাওয়ার পাশাপাশি ভাড়াও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এপ্রিলের শেষ দিকে কানাডা ও দিল্লির মধ্যে ইকোনমি শ্রেণির গড় রিটার্ন টিকিটের মূল্য প্রায় ১ হাজার ৯৬৩ মার্কিন ডলারে পৌঁছায়, যা আগের বছরের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেশি। উচ্চ ভাড়ার কারণে অনেক যাত্রী ভ্রমণ পরিকল্পনা স্থগিত বা বাতিল করতে বাধ্য হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কানাডায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা ১৮ লাখেরও বেশি। ফলে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ পারিবারিক সফর, শিক্ষার্থী যাতায়াত, ব্যবসা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এয়ার ইন্ডিয়ার এই সক্ষমতা হ্রাস পর্যটন খাতের পাশাপাশি হোটেল, ট্রাভেল এজেন্সি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে পরিস্থিতির উন্নতি হলে আগামী জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে আন্তর্জাতিক রুটে পূর্ণাঙ্গ ফ্লাইট পরিচালনা পুনরায় চালুর আশা করছে এয়ার ইন্ডিয়া।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN