আকাশে বজ্রপাতের ঝুঁকি, বিপাকে দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্স

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আকাশসীমায় ধারাবাহিক বজ্রপাতের ঘটনায় দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে

সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আকাশসীমায় ধারাবাহিক বজ্রপাতের ঘটনায় দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বজ্রপাতের আঘাতে একের পর এক আধুনিক উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ফ্লাইট পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে, পাশাপাশি বাড়ছে মেরামত ব্যয় ও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত কয়েক সপ্তাহে অন্তত তিনটি অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ বজ্রপাতের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার। ক্ষতিগ্রস্ত বিমানগুলোকে সাময়িকভাবে ‘এওজি’ (এয়ারক্রাফট অন গ্রাউন্ড) ঘোষণা করে উড্ডয়ন বন্ধ রাখতে হয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরের চারপাশে বজ্রপাত প্রতিরোধ ব্যবস্থা থাকলেও আকাশে অবতরণ বা উড্ডয়নের সময় বজ্রপাতের ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব হয় না। বিশেষ করে কালবৈশাখী ও বর্ষা মৌসুমে মেঘের মধ্যে সৃষ্ট শক্তিশালী বৈদ্যুতিক চার্জ উড়োজাহাজের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের প্রায় অর্ধেক অংশ কম্পোজিট বা কার্বন ফাইবার উপাদানে তৈরি। পুরোনো অ্যালুমিনিয়াম নির্মিত বিমানের তুলনায় এসব উপাদান বিদ্যুৎ কম পরিবহন করে। ফলে বজ্রপাতের তীব্র তাপ ও বৈদ্যুতিক শক্তি বিমানের বডিতে কালো দাগ, গর্ত কিংবা অভ্যন্তরীণ স্তরের বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতির মাত্রা বাইরে থেকে বোঝা না গেলেও ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ, ওয়্যারিং, এভিওনিকস ও জ্বালানি ব্যবস্থায় জটিল সমস্যা তৈরি হতে পারে।

জানা গেছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ড্রিমলাইনারের ইঞ্জিন বজ্রপাতের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। দীর্ঘ মেরামত শেষে সেটি পুনরায় সেবায় ফিরেছে। অন্য আরেকটি উড়োজাহাজ মেরামতে প্রায় ৩ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সর্বশেষ ইজিপ্ট এয়ারের ড্রিমলাইনারেও বজ্রপাতের প্রবেশ ও বহির্গমনের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে।

প্রকৌশলীরা বলছেন, এ ধরনের ক্ষতি নির্ণয়ে অত্যাধুনিক আল্ট্রাসনিক ও নন-ডেস্ট্রাকটিভ টেস্টিং প্রযুক্তির প্রয়োজন হয়। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা অনুযায়ী মেরামত করতে হওয়ায় ব্যয়ও অনেক বেশি হয়। গত ১৫ দিনে একাধিক উড়োজাহাজ গ্রাউন্ডেড থাকায় মেরামত ব্যয়, যন্ত্রাংশ আমদানি এবং ফ্লাইট বিলম্ব বা বাতিলজনিত ক্ষতি মিলিয়ে এয়ারলাইন্সগুলোর লোকসান কয়েক লাখ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আধুনিক আবহাওয়া রাডার, স্ট্যাটিক ডিসচার্জ প্রযুক্তি, উন্নত সেন্সর এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে বজ্রপাতজনিত ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। তবে প্রকৃতির এই শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ঘটনার বিরুদ্ধে শতভাগ সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখনো সম্ভব হয়নি।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN