বহরে ৪৭ উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা বিমানের

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০৩৫ সালের মধ্যে তাদের বহর ৪৭টি উড়োজাহাজে উন্নীত করার পরিকল্পনা

জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০৩৫ সালের মধ্যে তাদের বহর ৪৭টি উড়োজাহাজে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি কৌশলের অংশ হিসেবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

আফরোজা খানম বলেন, বহর সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ইতোমধ্যে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হলে বিমানের বহরের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক রুটে সেবা সম্প্রসারণ সহজ হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, শুধু ১৪টি উড়োজাহাজ কেনাতেই সীমাবদ্ধ নয়, ভবিষ্যতে আরও উড়োজাহাজ সংযোজনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। একটি ভারসাম্যপূর্ণ বা মিশ্র বহর গড়ে তোলা এবং সংস্থার টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করাই এ পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ২০৩৫ সাল পর্যন্ত প্রণীত বহর সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আগামী এক দশকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্যক্রম ও পরিবহন সক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। এতে যাত্রীসেবা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানও আরও শক্তিশালী হবে।

লিখিত উত্তরে মন্ত্রী গত ১৫ বছরে বিমানের বহরে যুক্ত হওয়া উড়োজাহাজগুলোর তথ্যও তুলে ধরেন। তিনি জানান, এ সময়ে মোট ৯টি নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৯ সালে দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার কেনা হয়। এছাড়া ২০২০ ও ২০২১ সালে পাঁচটি ড্যাশ ৮-৪০০ উড়োজাহাজ সংগ্রহ করা হয়। একই সঙ্গে ২০২১ সালে আরও দুটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করা হয়।

সরকারের মতে, নতুন উড়োজাহাজ সংযোজনের মাধ্যমে বিমানের যাত্রী ও কার্গো পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা, বিদ্যমান রুটে ফ্রিকোয়েন্সি বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করাও সহজ হবে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণ পরিকল্পনাকে দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতের উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিমান পরিবহন বাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতি আরও জোরালো হবে।

 

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.