বগুড়া-কুমিল্লাসহ ৮ জেলায় নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা

বাংলাদেশের আট জেলায় বিদ্যমান শর্ট টেক-অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং (এসটিওএল) সুবিধাগুলোকে পূর্ণাঙ্গ অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে রূপান্তরের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শুরু করেছে সরকার।

বাংলাদেশের আট জেলায় বিদ্যমান শর্ট টেক-অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং (এসটিওএল) সুবিধাগুলোকে পূর্ণাঙ্গ অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে রূপান্তরের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শুরু করেছে সরকার। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন।

সংসদ সদস্য আবু তালেব মণ্ডলের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশের বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত এসটিওএল বিমানঘাঁটিগুলোকে কার্যকর অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বিস্তারিত সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। সমীক্ষা প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে বিমানবন্দরগুলো চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি জানান, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বগুড়া, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, পাবনার ঈশ্বরদী, মৌলভীবাজারের শমশেরনগর, বাগেরহাটের খানজাহান আলী, কুমিল্লা এবং পটুয়াখালী জেলার এসটিওএল সুবিধাগুলোর সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের সর্বত্র একটি সমন্বিত আকাশপথ যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ধাপে বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ছোট বিমানবন্দর ও এয়ারস্ট্রিপ নির্মাণ বা উন্নয়ন করা হবে। পরবর্তীতে জেলা পর্যায়েও বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণ করা হবে। এর ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সঙ্গে দ্রুত ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের আরেক প্রশ্নের জবাবে আফরোজা খানম জানান, গত ১৫ বছরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তাদের বহরে মোট ৯টি নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করেছে। এর মধ্যে ২০১৯ সালে দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার, ২০২০ ও ২০২১ সালে পাঁচটি ড্যাশ-৮-৪০০ এবং ২০২১ সালে দুটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ বহরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

তিনি আরও জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ‘ফ্লিট এক্সপ্যানশন প্ল্যান ২০২৬-২০৩৫’ অনুযায়ী ২০৩৫ সালের মধ্যে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটির মোট ৪৭টি উড়োজাহাজের প্রয়োজন হবে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য ইতোমধ্যে বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি বহরকে আরও বৈচিত্র্যময় ও টেকসই করতে অতিরিক্ত উড়োজাহাজ সংগ্রহের বিষয়টিও বিবেচনাধীন রয়েছে।

সরকারের এই উদ্যোগ দেশের বিমান পরিবহন খাতকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN