আকাশপথ সম্প্রসারণে বড় পরিকল্পনা, নতুন বিমানবন্দর ও উড়োজাহাজ সংযোজন

দেশজুড়ে আকাশপথের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আটটি স্টলপোর্টকে (স্বল্প দূরত্বে উড্ডয়ন ও অবতরণ উপযোগী বিমানঘাঁটি) অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

দেশজুড়ে আকাশপথের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আটটি স্টলপোর্টকে (স্বল্প দূরত্বে উড্ডয়ন ও অবতরণ উপযোগী বিমানঘাঁটি) অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আরও ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার জন্য বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।

বৃহস্পতিবার সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী দেশব্যাপী একটি ‘ন্যাশনাল এয়ার কানেকটিভিটি গ্রিড’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোকে আকাশপথে সংযুক্ত করা হবে এবং ছোট বিমানবন্দর ও এয়ারস্ট্রিপ নির্মাণ করা হবে।

মন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে বগুড়া, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, পাবনার ঈশ্বরদী, মৌলভীবাজারের শমশেরনগর, বাগেরহাটের খানজাহান আলী, কুমিল্লা ও পটুয়াখালীর স্টলপোর্টকে অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর হিসেবে উন্নীত করার জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শুরু হয়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, ঈশ্বরদী বিমানবন্দরের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ১৯৬২ সালে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স সেখানে যাত্রীবাহী ফ্লাইট চালু করে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এফ-২৭ উড়োজাহাজ দিয়ে প্রথম ফ্লাইট পরিচালনা করে। তবে ১৯৮৭ সালে বাণিজ্যিক কারণে এটি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে আবার চালু হলেও যাত্রীসংকটের কারণে ১৯৯৬ সালে পুনরায় বন্ধ করা হয়। সর্বশেষ ২০১৩-১৪ সালে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ এই রুটে ফ্লাইট চালায়।

আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, গত ১৫ বছরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স মোট ৯টি উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করেছে। এর মধ্যে ২০১৯ সালে দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯, ২০২০ ও ২০২১ সালে পাঁচটি ড্যাশ-৮-৪০০ এবং ২০২১ সালে দুটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ কেনা হয়।

তিনি জানান, ‘ফ্লিট এক্সপ্যানশন প্ল্যান ২০২৬-২০৩৫’ অনুযায়ী ২০৩৫ সালের মধ্যে বিমান বহরে ৪৭টি উড়োজাহাজ প্রয়োজন হবে। এই লক্ষ্য পূরণে ইতোমধ্যে বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ ক্রয়ের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়নের জন্য ‘মিক্সড ফ্লিট’ গঠনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন ধরনের উড়োজাহাজ যুক্ত থাকবে। এতে যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বাড়বে এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে সেবার মান উন্নত হবে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN