কলকাতার কাছে নির্মিত হচ্ছে নতুন বিমানবন্দর

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও বিস্তৃত করতে একাধিক নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ এবং বিদ্যমান অবকাঠামো সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও বিস্তৃত করতে একাধিক নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ এবং বিদ্যমান অবকাঠামো সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার (২২ জুন) রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এই পরিকল্পনার কথা জানান।

বাজেট বক্তব্যে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে বিমান যোগাযোগের সুযোগ বাড়াতে পুরুলিয়ামালদহে নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের হাসিমারা এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুণ্ডা বিমানবন্দরের সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি চিহ্নিত ও অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাগুলোর মধ্যে রয়েছে কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর ক্রমবর্ধমান যাত্রীচাপ কমাতে মহানগরের কাছাকাছি আরও একটি নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা। যদিও নতুন বিমানবন্দরটি কোথায় নির্মাণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে সরকার জানিয়েছে, উপযুক্ত স্থান নির্বাচন এবং প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শিগগিরই শুরু হবে।

বর্তমানে কলকাতা বিমানবন্দর পূর্ব ভারতের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় রুটেই যাত্রী সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যমান অবকাঠামোর ওপর চাপ বেড়েছে। নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের মাধ্যমে সেই চাপ কমানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের যাত্রী ও কার্গো চাহিদা পূরণের লক্ষ্য নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুলিয়া ও মালদহে নতুন বিমানবন্দর নির্মিত হলে রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে। শিল্প, পর্যটন, কৃষি এবং বাণিজ্য খাতের বিকাশে এসব বিমানবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে পুরুলিয়া পর্যটন ও শিল্প বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় এলাকা হওয়ায় সেখানে বিমানবন্দর নির্মাণ নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে।

একই সঙ্গে হাসিমারা ও কলাইকুণ্ডা বিমানবন্দরের সম্প্রসারণের ফলে উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিমান যোগাযোগ আরও উন্নত হবে। এতে পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পশ্চিমবঙ্গে একাধিক নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ এবং বিদ্যমান বিমানবন্দর সম্প্রসারণের এই উদ্যোগ শুধু যাত্রীসেবাই উন্নত করবে না, বরং আঞ্চলিক সংযোগ, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এছাড়া কলকাতার কাছাকাছি দ্বিতীয় একটি বিমানবন্দর নির্মিত হলে ভবিষ্যতে পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান এভিয়েশন হাব হিসেবে রাজ্যের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.