এয়ার ইন্ডিয়ার নতুন সিইও দৌড়ে এগিয়ে নিপুন আগারওয়াল ও বিনোদ কান্নান

এয়ার ইন্ডিয়ার নতুন সিইও দৌড়ে এগিয়ে নিপুন আগারওয়াল ও বিনোদ কান্নান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: এয়ার ইন্ডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্যাম্পবেল উইলসনের পদত্যাগের প্রায় দুই মাস পর প্রতিষ্ঠানটির নতুন নেতৃত্ব নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতের টাটা গ্রুপের মালিকানাধীন বিমান সংস্থাটির পরবর্তী সিইও হিসেবে বর্তমানে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন নিপুন আগারওয়াল ও বিনোদ কান্নান।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এয়ার ইন্ডিয়ার চলমান রূপান্তর কর্মসূচির অন্যতম পরিকল্পনাকারী এবং বর্তমান চিফ কমার্শিয়াল অফিসার (সিসিও) নিপুন আগারওয়াল শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। অন্যদিকে, ভিস্তারার সাবেক প্রধান নির্বাহী বিনোদ কান্নানও নেতৃত্বের অভিজ্ঞতার কারণে আলোচনায় রয়েছেন।

দুই প্রার্থীর শক্তি ও সীমাবদ্ধতা

সংস্থার অভ্যন্তরীণ সূত্রের মতে, আগারওয়াল ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনাগত দক্ষতার জন্য পরিচিত। তবে একটি বৈশ্বিক পূর্ণাঙ্গ সেবা প্রদানকারী বিমান সংস্থা পরিচালনার অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়ার এক সাবেক পরিচালক মন্তব্য করেন, আগারওয়ালের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা থাকলেও আন্তর্জাতিক মানের পূর্ণাঙ্গ এয়ারলাইন পরিচালনার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা সীমিত।

অন্যদিকে বিনোদ কান্নান ভিস্তারার প্রধান হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালে ভিস্তারা এয়ার ইন্ডিয়ার সঙ্গে একীভূত হওয়ার আগে তিনি প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ফলে বিমান পরিচালনা ও অপারেশন ব্যবস্থাপনায় তাঁর অভিজ্ঞতা তাকে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

সিদ্ধান্তে বিলম্বের কারণ

তবে নতুন সিইও নিয়োগের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টাটা সন্সের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য ও নেতৃত্ব পরিবর্তন সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা এ সিদ্ধান্তকে জটিল করে তুলেছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন. চন্দ্রশেখরন নিপুন আগারওয়ালকে সমর্থন করলেও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তার কারণে তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। আগামী ফেব্রুয়ারিতে তাঁর বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, টাটা ট্রাস্টসের চেয়ারম্যান নোয়েল টাটা চন্দ্রশেখরনের মেয়াদ আরও বাড়ানোর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, যা পুরো প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করেছে।

উইলসনের পদত্যাগ ও নতুন নেতৃত্বের খোঁজ

চলতি বছরের এপ্রিলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়ান ক্যাম্পবেল উইলসন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের রাজধানী দিল্লির দূষণ ও বায়ুমানের অবনতিকে তিনি পদত্যাগের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

এর আগে গত জানুয়ারিতে রয়টার্স জানিয়েছিল, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর বাড়তি নজরদারি এবং একাধিক চ্যালেঞ্জের কারণে এয়ার ইন্ডিয়া নতুন নেতৃত্ব খুঁজছিল। বিশেষ করে গত বছর এআই-১৭১ ফ্লাইট দুর্ঘটনায় ২৬০ জন নিহত হওয়ার পর সংস্থাটি ব্যাপক চাপের মুখে পড়ে।

কঠিন সময় পার করছে এয়ার ইন্ডিয়া

যিনি নতুন সিইও হবেন, তাঁকে নানা সংকট মোকাবিলা করতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে চলতি বছর এয়ার ইন্ডিয়া প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত ফ্লাইট সক্ষমতা কমাতে বাধ্য হয়েছে।

এ ছাড়া ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার জেরে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারে বিধিনিষেধও সংস্থাটির জন্য বড় আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ নিষেধাজ্ঞার কারণে এয়ার ইন্ডিয়ার বছরে প্রায় ৬০ কোটি মার্কিন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে।

সর্বশেষ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার লোকসান গুনেছে। তবে এয়ার ইন্ডিয়ার ২৫ শতাংশ অংশীদার Singapore Airlines জানিয়েছে, সংস্থাটি এখনও বহর আধুনিকীকরণ ও উড়োজাহাজ সংস্কার কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

বিমান শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, এয়ার ইন্ডিয়ার নতুন সিইও নির্বাচনের সিদ্ধান্ত শুধু প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নয়, ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনাতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN