জেটস্টারের দুই রুট বন্ধ, বিমান ভাড়া আরও বাড়ার সতর্কতা

অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিমান পরিবহন খাত ক্রমবর্ধমান ব্যয়, কর এবং নিয়ন্ত্রক ফি বৃদ্ধির কারণে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে

অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিমান পরিবহন খাত ক্রমবর্ধমান ব্যয়, কর এবং নিয়ন্ত্রক ফি বৃদ্ধির কারণে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা জেটস্টার (Jetstar) দুটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রান্স-তাসমান রুটে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, অকল্যান্ড-সানশাইন কোস্ট এবং ক্রাইস্টচার্চ-কেয়ার্নস রুটে যাত্রী চাহিদা প্রত্যাশার তুলনায় কম থাকায় এবং পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তবে একই সঙ্গে জেটস্টার নিশ্চিত করেছে যে, আগামী অক্টোবরের শেষ দিক থেকে ক্রাইস্টচার্চ-সিডনি রুটে তাদের ফ্লাইট পুনরায় চালু হবে।

জেটস্টারের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, পরিচালন ব্যয় এবং অন্যান্য খরচ দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় কিছু রুট লাভজনক রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীলতার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিমান সংস্থাগুলোর ব্যয়ের ওপর। এর পাশাপাশি বিমানবন্দর ফি, নিরাপত্তা ব্যয় এবং বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক বাধ্যবাধকতাও ক্রমেই বাড়ছে।

এয়ারলাইন্স ফর অস্ট্রেলিয়া অ্যান্ড নিউজিল্যান্ড (A4ANZ)-এর চেয়ারম্যান গ্রেম স্যামুয়েল বলেন, তাদের সংগঠন দীর্ঘদিন ধরেই সরকারকে সতর্ক করে আসছে যে অতিরিক্ত কর, ফি ও নিয়ন্ত্রক ব্যয় শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের ওপরই প্রভাব ফেলবে। এর ফলে হয় বিমান ভাড়া বাড়বে, নয়তো অলাভজনক বা কম চাহিদাসম্পন্ন রুটগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। বিশেষ করে আঞ্চলিক এলাকাগুলোর সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করা যেসব রুটের মাধ্যমে সম্ভব হয়, সেগুলোই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

তিনি আরও জানান, অস্ট্রেলিয়ার সর্বশেষ বাজেটে আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য প্যাসেঞ্জার মুভমেন্ট চার্জ ৭০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার থেকে বাড়িয়ে ৮০ ডলার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিমান খাতের কর্মীদের নিরাপত্তা যাচাই সংক্রান্ত AusCheck ফি ৯২ ডলার থেকে বেড়ে ২৬২ ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া এয়ারসার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়া বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ সেবার চার্জও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। বিমানবন্দরগুলোর যাত্রী সেবার ফি মূল্যস্ফীতির তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ গতিতে বাড়ছে এবং নতুন প্রবেশগম্যতা ও পরিবেশগত নীতিমালা বাস্তবায়নের কারণেও বিমান সংস্থাগুলোর অতিরিক্ত ব্যয় বাড়ছে।

বিমান শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার যদি বিমান পরিবহন খাতকে রাজস্ব আদায়ের উৎস হিসেবে দেখতেই থাকে এবং ব্যয় কমানোর উদ্যোগ না নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও অনেক রুট বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে প্রতিযোগিতা কমবে, যাত্রীদের জন্য বিকল্প ফ্লাইটের সংখ্যা হ্রাস পাবে এবং বিমান ভাড়া আরও বৃদ্ধি পাবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সাশ্রয়ী মূল্যের বিমান ভ্রমণ শুধু পর্যটন নয়, আঞ্চলিক যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিমান পরিবহন খাতকে টেকসই রাখতে সরকারকে কর ও ফি নির্ধারণে আরও ভারসাম্যপূর্ণ নীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে শিল্প সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.