কোকেন পাচারের নতুন করিডোরে বাংলাদেশ?
বাংলাদেশকে কোকেন পাচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘ট্রানজিট’ বা যাত্রাবিরতি কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা
আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী চক্রগুলো বাংলাদেশকে কোকেন পাচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘ট্রানজিট’ বা যাত্রাবিরতি কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের অধীন সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল নারকোটিক্স কন্ট্রোল বোর্ড (আইএনসিবি)। সংস্থাটির ২০২৫ সালের বৈশ্বিক মাদক পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ আমেরিকায় কোকেন উৎপাদন রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোর পর পাচারকারীরা নতুন রুট ও বাজার খুঁজতে শুরু করেছে। সেই তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশও গুরুত্ব পাচ্ছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনেও একই ধরনের তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, কলম্বিয়া, পেরু ও বলিভিয়ায় উৎপাদিত কোকেন প্রথমে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে পৌঁছায়। এরপর আন্তর্জাতিক মাদক চক্র আকাশপথে বাংলাদেশে কোকেন নিয়ে আসে এবং এখান থেকে ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাচারের চেষ্টা করে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে দেশে অন্তত ১০টি কোকেনের চালান জব্দ করা হয়েছে। শুধু ২০২৪ সালেই প্রায় ১৩০ কেজি কোকেন উদ্ধার করা হয়। ২০২৫ সালে উদ্ধার হয়েছে ১৪ দশমিক ৬৫১ কেজি কোকেন। একই বছরে পরীক্ষাগারে পাঠানো সাতটি নমুনার সবগুলোতেই কোকেনের অস্তিত্ব নিশ্চিত হয়েছে। কোকেন পাচারের অভিযোগে মালাউই, নাইজেরিয়া, তানজানিয়া ও ক্যামেরুনের একাধিক নাগরিককে বাংলাদেশে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ শুধু আকাশপথেই নয়, সীমান্ত পথেও মাদকের ঝুঁকিতে রয়েছে। মিয়ানমারের শান ও কাচিন রাজ্যে উৎপাদিত মেথামফেটামিন সীমান্তবর্তী বিভিন্ন রুট হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। নাফ নদী, টেকনাফ, শাহপরীর দ্বীপ, উখিয়া, সেন্ট মার্টিন ও কক্সবাজার উপকূলও মাদক পাচারের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, ২০১৮ সালের পর দেশে ১৩ ধরনের নতুন বা অপ্রচলিত মাদক শনাক্ত হয়েছে, যার অধিকাংশই রাসায়নিকভাবে তৈরি। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল, গোল্ডেন ক্রিসেন্ট এবং গোল্ডেন ওয়েজ—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মাদক উৎপাদন ও পাচার অঞ্চলের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকায় আন্তর্জাতিক চক্রগুলোর নজরে রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সীমান্ত নজরদারি, প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
