ভিয়েতনামের লং থান বিমানবন্দরে বাড়ছে এয়ারলাইন্সের আগ্রহ
ভিয়েতনামের নির্মাণাধীন লং থান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালুর আগেই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
ভিয়েতনামের নির্মাণাধীন লং থান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালুর আগেই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। বিমানবন্দরটি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যে দ্রুত নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারী এয়ারপোর্টস কর্পোরেশন অব ভিয়েতনাম (এসিভি) বিভিন্ন এয়ারলাইন্স ও অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরিচালন পরিকল্পনা, রুট বণ্টন এবং প্রস্তুতি নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।
এসিভি জানিয়েছে, বিমানবন্দর পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলতে লং থান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শাখা, এভিয়েশন ফুয়েল শাখা এবং কার্গো শাখা ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এসব ইউনিটে জনবল নিয়োগের কাজ চলছে এবং আগামী জুলাইয়ের মধ্যেই তা সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচিয়ন বিমানবন্দর কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে পরিচালন পরীক্ষা ও কার্যক্রম হস্তান্তরের জন্য পরামর্শ চুক্তিও স্বাক্ষর করা হয়েছে।
এসিভির তথ্য অনুযায়ী, ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স লং থান বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে। সংস্থাটি বেইজিং দাক্সিং, হংকং, গুয়াংঝৌ এবং ম্যানিলাগামী কয়েকটি আন্তর্জাতিক রুট নতুন বিমানবন্দরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছে। এছাড়া ভিয়েটজেট এয়ারও একাধিক আন্তর্জাতিক রুট পরিচালনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং ভিয়েট্রাভেল এয়ারলাইন্স ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এখান থেকে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দিয়েছে।
বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। এখন পর্যন্ত ৩৪টি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধি লং থান বিমানবন্দরের পরিচালন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা এবং বিভিন্ন কারিগরি পরিদর্শন সম্পন্ন করেছেন। এসিভি আশা করছে, বিমানবন্দর চালু হওয়ার পর এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল কেন্দ্রে পরিণত হবে।
বিমানবন্দরটির কার্যক্রম পরিচালনায় তান সন নাত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সঙ্গে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ও স্বল্প দূরত্বের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট তান সন নাতে এবং দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক রুট ধীরে ধীরে লং থানে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
এসিভির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে লং থান বিমানবন্দরে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ২০ লাখ যাত্রী যুক্ত হবে। সম্ভাব্য নতুন আন্তর্জাতিক রুটের মধ্যে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া এবং ওশেনিয়ার বিভিন্ন গন্তব্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ভিয়েতনাম সরকারও আন্তর্জাতিক যাত্রী আকর্ষণে ভিসা নীতি আরও সহজ করার পরিকল্পনা বিবেচনা করছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর পরীক্ষামূলক পরিচালনা, নিরাপত্তা যাচাই, প্রযুক্তিগত সমন্বয় এবং লাইসেন্সিং সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়েই লং থান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে।
