ওসমানী বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেছে কাতারে নিহত ৫ প্রবাসীর মরদেহ

কাতারের শাহানিয়া এলাকায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ বাংলাদেশি প্রবাসীর মরদেহ অবশেষে দেশে পৌঁছেছে।

কাতারের শাহানিয়া এলাকায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ বাংলাদেশি প্রবাসীর মরদেহ অবশেষে দেশে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর স্বজনদের কাছে প্রিয়জনের মরদেহ পৌঁছালে বিমানবন্দরজুড়ে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, সোমবার (২৯ জুন) কাতারের স্থানীয় সময় রাত ১০টা ১৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-২২৬ নম্বর ফ্লাইটে দোহার হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মরদেহগুলো বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার সকালে সেগুলো নিরাপদে সিলেটে পৌঁছে। বিমানবন্দরে নিহতদের স্বজন, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে মরদেহ দেশে পাঠানোর সব ধরনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মরদেহগুলো পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো কাজ করছে।

গত ২১ জুন কাতারের শাহানিয়া এলাকায় একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এই পাঁচ বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়। তারা সবাই সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা এবং জীবিকার তাগিদে কাতারে কর্মরত ছিলেন।

নিহতরা হলেন— গাছবাড়ী গ্রামের আব্দুল কাদির, মাঝতালুক গ্রামের মুস্তাক আহমেদ আফনান, একই গ্রামের জুবায়ের আহমেদ, আগাতালুক গ্রামের জসিম উদ্দিন এবং আমরপুর গ্রামের জিবাল আহমেদ।

তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে কানাইঘাটসহ পুরো সিলেট অঞ্চলে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনরা দীর্ঘদিন ধরে মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন। মঙ্গলবার মরদেহ পৌঁছানোর পর সেগুলো নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাস দুর্ঘটনার পর থেকেই নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং দ্রুত মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেছে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের পরিবারের পাশে সরকার রয়েছে এবং প্রযোজ্য সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN