নোই বাই বিমানবন্দর থেকে ভেনেজুয়েলায় ত্রাণের দ্বিতীয় বিশেষ ফ্লাইট
ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ায় ভিয়েতনামকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছে দেশটির সরকার।
ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ায় ভিয়েতনামকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছে দেশটির সরকার। বিশেষ করে ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্সের পরিচালিত দুটি বিশেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে উদ্ধারকারী দল, ত্রাণসামগ্রী ও জরুরি সরঞ্জাম দ্রুত ভেনেজুয়েলায় পৌঁছানোয় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে কারাকাস।
২৯ জুন ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি দেলসি রদ্রিগেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে ভিয়েতনামের দ্রুত সহায়তা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে। তিনি জানান, অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিতে ভিয়েতনাম ১২৪ সদস্যের একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে, যারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জীবিতদের সন্ধান, উদ্ধার এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
রদ্রিগেজ আরও বলেন, ভেনেজুয়েলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা পাঠানো প্রায় ৩০টি দেশের মধ্যে ভিয়েতনাম অন্যতম। উদ্ধার অভিযান এখনো চলমান রয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের জীবিত উদ্ধারের আশা এখনও শেষ হয়ে যায়নি। তিনি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সব উদ্ধারকারী দলের নিরলস প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।
এদিকে ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স ২৯ জুন রাতে দ্বিতীয় বিশেষ ত্রাণ ফ্লাইট পরিচালনা করে। এয়ারবাস এ৩৫০ উড়োজাহাজে পরিচালিত ভিএন৬৮ ফ্লাইটটি রাত ১১টা ৩০ মিনিটে নোই বাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। ফ্রান্সের প্যারিস শার্ল দ্য গল বিমানবন্দরে কারিগরি যাত্রাবিরতির পর উড়োজাহাজটি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। প্রায় ২৪ ঘণ্টার এই দীর্ঘ যাত্রায় মোট ৪৬ দশমিক ৮ টন ত্রাণসামগ্রী পরিবহন করা হয়।
ত্রাণসামগ্রীর পাশাপাশি উদ্ধারকারী বাহিনীর সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় উপকরণও এই ফ্লাইটে পাঠানো হয়। পুরো মিশন সফল করতে ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স ৬ জন পাইলট, ৩ জন কেবিন ক্রু, ২ জন প্রকৌশলী এবং ৪ জন গ্রাউন্ড স্টাফসহ মোট ১৫ সদস্যের একটি বিশেষ দল মোতায়েন করে।
এর আগে প্রথম বিশেষ ফ্লাইটে ভিয়েতনামের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের ১২৪ জন উদ্ধারকর্মী, ১০টি সার্ভিস কুকুর এবং প্রায় ২৫ টন উদ্ধার সরঞ্জাম ভেনেজুয়েলায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। প্রথম মিশন শেষ হওয়ার পরপরই দ্বিতীয় ফ্লাইটের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়, যাতে জরুরি ত্রাণসামগ্রী দ্রুত দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়।
ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, গ্রীষ্মকালীন ব্যস্ত মৌসুমেও মানবিক দায়িত্বকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে। সংস্থাটি আশা করছে, এই সহায়তা ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে এবং উদ্ধার কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
