ভূমিকম্পের পর দ্রুত চালু হচ্ছে কারাকাস বিমানবন্দর
গত মাসে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের প্রধান প্রবেশদ্বার সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দ্রুত পুনরায় বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে
গত মাসে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের প্রধান প্রবেশদ্বার সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দ্রুত পুনরায় বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ জানিয়েছেন, বিকল্প বা সমান্তরাল রানওয়ে ব্যবহার করে যত দ্রুত সম্ভব বিমানবন্দরটি যাত্রীবাহী ফ্লাইটের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
কারাকাসের উত্তরে লা গুয়াইরা এলাকায় অবস্থিত এই বিমানবন্দরটি ২৪ জুন আঘাত হানা ৭.৩ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল বিমানবন্দরের আশপাশের এলাকায়, ফলে রানওয়ে, টার্মিনাল ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে বিমানবন্দরটি সীমিত পরিসরে মানবিক সহায়তা ও ত্রাণবাহী ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৬৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ১৭ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। হাজার হাজার পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও তাঁবুতে বসবাস করছে। লা গুয়াইরা অঞ্চলে এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং স্বজনরা ধ্বংসস্তূপে তাদের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিমানবন্দর দ্রুত সচল করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীরা রানওয়ে মেরামত, আকাশপথের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং কার্গো কার্যক্রমে সহায়তা করছেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত বন্দর পুনরুদ্ধারের কাজও চলছে, যাতে ত্রাণ ও জরুরি সরঞ্জাম সরবরাহ সহজ হয়।
মার্কিন কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন, যাতে অবকাঠামোগত কাজ শেষ হলেই নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট পুনরায় চালু করা যায়। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যাত্রীসেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ মেরামত কাজ বাকি রয়েছে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পে প্রায় ৬৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যা ভেনেজুয়েলার মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৬ শতাংশের সমান। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটে জর্জরিত দেশটির জন্য এই দুর্যোগ নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
তারপরও বিমানবন্দর দ্রুত চালুর উদ্যোগ দেশটির পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পুনরায় চালু হলে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতেও তা সহায়ক হবে।
