তাজিকিস্তানের সঙ্গে ই-ভিসা ও সরাসরি ফ্লাইট চায় বাংলাদেশ
তাজিকিস্তানকে ই-ভিসা সুবিধা চালু, ব্যাংকিং সংযোগ সম্প্রসারণ এবং সরাসরি বিমান চলাচল শুরুর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ ও তাজিকিস্তানের মধ্যকার বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে ই-ভিসা সুবিধা চালু, ব্যাংকিং সংযোগ সম্প্রসারণ এবং সরাসরি বিমান চলাচল শুরুর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ও কমনওয়েলথ অব ইন্ডিপেনডেন্ট স্টেটস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিআইএস-বিসিসিআই)। বুধবার ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
বৈঠকে অংশ নেন বাংলাদেশ সফররত তাজিকিস্তানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইদিবেক কালান্দার ও তাঁর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল। বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন সিআইএস-বিসিসিআই সভাপতি যাদব দেবনাথ। উভয় পক্ষই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে বিদ্যমান সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সিআইএস-বিসিসিআই মনে করে, ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ ও দ্রুত ই-ভিসা ব্যবস্থা চালু হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সফর বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে তাজিক ব্যাংকগুলোর শাখা বা প্রতিনিধি কার্যালয় বাংলাদেশে স্থাপিত হলে আন্তঃসীমান্ত আর্থিক লেনদেন আরও নিরাপদ ও কার্যকর হবে।
বৈঠকে বিশেষভাবে গুরুত্ব পায় ঢাকা ও দুশানবের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর বিষয়টি। সংশ্লিষ্টরা বলেন, সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে ভ্রমণের সময় ও ব্যয় কমবে, যা ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়কে আরও গতিশীল করবে। পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগও বাড়বে।
উভয় পক্ষের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে সিআইএস-বিসিসিআই এবং তাজিকিস্তানের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়েও নীতিগত ঐকমত্য হয়। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বিনিময়, বাজারসংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান এবং যৌথ বিনিয়োগ উদ্যোগ গ্রহণের পথ সুগম হবে।
যাদব দেবনাথ বৈঠকে বলেন, পর্যটন, ওষুধ শিল্প, পাট ও পাটজাত পণ্য, জ্বালানি, হসপিটালিটি, তুলা এবং কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত পণ্যের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানান।
কূটনীতিক ও ব্যবসায়ী নেতারা আশা প্রকাশ করেন, আলোচনার ধারাবাহিকতায় গৃহীত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ও তাজিকিস্তানের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন গতি পাবে এবং মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে আঞ্চলিক সংযোগ আরও সুদৃঢ় হবে।
