শাহজালালে কাস্টমস চেকিংয়ে যাত্রী হয়রানি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস চেকিংয়ের নামে যাত্রী হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস চেকিংয়ের নামে যাত্রী হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। প্রবাসী যাত্রীদের অভিযোগ, বৈধভাবে আনা ব্যক্তিগত ব্যবহার্য পণ্য ও উপহারসামগ্রী নিয়েও অনেক সময় তাদের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।

সৌদি আরবপ্রবাসী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ টিপু (৬৫) অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকায় ফেরার পর কাস্টমস কর্মকর্তারা তার লাগেজ তল্লাশি করে ৬৬ কেজি খেজুরসহ বিভিন্ন ফল পান। পরে তাকে ২০ হাজার টাকা ট্যাক্স দিতে বলা হয়। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ২৫ কেজি খেজুর রেখে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।

টিপুর অভিযোগ, বিদেশের বিমানবন্দরে যাত্রীদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়নি। অথচ দেশে ফেরার পর ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের বিভিন্ন ধাপে প্রবাসীদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। ব্যক্তিগত ব্যবহার্য জিনিসপত্র ও স্বজনদের জন্য আনা উপহারসামগ্রীকে বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে দেখিয়ে অতিরিক্ত শুল্ক বা অর্থ দাবি করার অভিযোগও রয়েছে।

আরেক প্রবাসী আহম্মেদ হোসেন অভিযোগ করেন, বিমানবন্দরের বিভিন্ন পর্যায়ে যাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের জন্য নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়। বিদেশগামী যাত্রীদের ক্ষেত্রেও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। তার দাবি, কখনো কখনো যাত্রীদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা রিপোর্ট থাকার কথা বলে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়।

সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, কাস্টমসের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি নতুন নয়। লাগেজে শুল্কযোগ্য পণ্য না থাকলেও অতিরিক্ত পরীক্ষা, ওজন কিংবা জরিমানার ভয় দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। এতে যাত্রী ও কর্মকর্তাদের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতিও তৈরি হয়।

তবে কাস্টমস কর্মকর্তা মো. কামাল বলেন, যাত্রী হয়রানির বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। যাত্রীসেবার মান বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, শাহজালাল বিমানবন্দরকে স্বর্ণ ও মাদক চোরাচালানের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছে আন্তর্জাতিক চক্র। গত পাঁচ বছরে বিমানবন্দরটিতে ২ হাজার ২৩৩ কেজি স্বর্ণ জব্দ হয়েছে। ব্যাগেজ রুলসের সুযোগ নিয়ে চোরাচালানের অভিযোগও রয়েছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বিমানবন্দরের কাস্টমস গুদাম থেকে ৫৫ কেজি সোনা চুরির ঘটনাও আলোচনায় আসে।

যাত্রী হয়রানি বন্ধে নিয়মের স্বচ্ছ প্রয়োগ, কর্মকর্তাদের জবাবদিহি এবং অভিযোগ তদন্তে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে চোরাচালান প্রতিরোধ ও সাধারণ যাত্রীদের হয়রানি—দুই বিষয়েই কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN