অক্টোবরে চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

অক্টোবরে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে যাচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

অক্টোবরে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে যাচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বড় অবকাঠামোগত কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় কোন কোন বিমান সংস্থা যুক্ত হবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) এয়ার কমোডর মো. নূর-ই-আলম জানিয়েছেন, অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহকে সামনে রেখে বিমানবন্দর উদ্বোধনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের পরিচালক গোলাম মুর্তজা হোসেন জানান, বেবিচক চেয়ারম্যানসহ একটি দল সম্প্রতি বিমানবন্দরের অগ্রগতি পরিদর্শন করেছে। আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনাল ও অন্যান্য অবকাঠামোর কাজ প্রায় শেষ। কিছু শেষ মুহূর্তের কাজ ছাড়া বড় ধরনের নির্মাণকাজ বাকি নেই।

বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনালের নির্মাণকাজ ৯৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ ৯১ দশমিক ৬৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। দুটি প্রকল্পের কাজ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চলার কথা থাকলেও আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রায় প্রস্তুত।

বিমানবন্দরের রানওয়ে ৯ হাজার ফুট থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুট করা হয়েছে। সমুদ্র থেকে প্রায় ৪৩ হেক্টর জমি পুনরুদ্ধার করে এই সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বেবিচকের দাবি, সম্প্রসারিত রানওয়েতে বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর ও বোয়িং ৭৪৭-৪০০-এর মতো বড় উড়োজাহাজও ওঠানামা করতে পারবে।

১৭ হাজার ৯৫৬ বর্গমিটার আয়তনের আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনালেও বিভিন্ন সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। এতে ৪৫০ জন আন্তর্জাতিক যাত্রীর জন্য প্রস্থান লাউঞ্জ, বোর্ডিং ব্রিজ, লিফট, এস্কেলেটর, লাগেজ পরিবাহক, চেক-ইন কাউন্টার ও ইমিগ্রেশন সুবিধা রয়েছে।

এ ছাড়া ৩৬ হাজার ৩০০ বর্গমিটারের অ্যাপ্রোনে দুটি বড় উড়োজাহাজ ও তিনটি ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুটি ট্যাক্সিওয়ে ইতোমধ্যে চালু হয়েছে। তবে গাড়ি পার্কিংয়ের কিছু কাজ এখনো চলছে।

বিমানবন্দরটি বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ২৮ থেকে ৩০টি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের ওঠানামা পরিচালনা করে। তবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে বিমান সংস্থাগুলোর আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলমের মতে, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তৈরির আগে সম্ভাব্য ব্যবহারকারী বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে তাদের চাহিদা নির্ধারণ করা প্রয়োজন ছিল। তার দাবি, বিদেশি কোনো বিমান সংস্থা এখন পর্যন্ত কক্সবাজার থেকে ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে আগ্রহ দেখায়নি। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস সম্ভাব্যভাবে ফ্লাইট পরিচালনার কথা জানিয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্টরাও বলছেন, শুধু বিমানবন্দর নির্মাণ করলেই আন্তর্জাতিক যাত্রী পাওয়া যাবে না। বিমান সংস্থার আগ্রহের পাশাপাশি কক্সবাজারের পর্যটন অবকাঠামো, প্রচার ও বিপণন বাড়ানো প্রয়োজন।

এরই মধ্যে কক্সবাজারকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও উড়োজাহাজ চলাচলের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে দ্বিতীয় ধাপের পরামর্শক ও নকশা প্রকল্পও এগিয়ে নিচ্ছে বেবিচক।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.