ইসরায়েলি ফ্লাইটে অবতরণের অনুমতি দিল না মরিশাস

ইসরায়েল থেকে আসা একটি নির্ধারিত ফ্লাইটকে অবতরণের অনুমতি দেয়নি আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র মরিশাস।

ইসরায়েল থেকে আসা একটি নির্ধারিত ফ্লাইটকে অবতরণের অনুমতি দেয়নি আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র মরিশাস। দেশটির কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অবতরণের অনুমতি পাওয়ার একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত ফ্লাইটটি বাতিল করতে হয়েছে। শনিবার ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটের প্রতিবেদনে বলা হয়, এয়ার সেশেলসের একটি ফ্লাইট ইসরায়েল থেকে মরিশাসের উদ্দেশে যাওয়ার কথা ছিল। ওই ফ্লাইটে ইসরায়েলি যাত্রীদের পাশাপাশি পর্যটকরাও থাকার কথা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে মরিশাসের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ফ্লাইটটিকে অবতরণের অনুমতি না দেওয়ায় নির্ধারিত যাত্রা বাতিল করা হয়।

ফ্লাইটটির আয়োজক ইসরায়েলি পর্যটন প্রতিষ্ঠান ‘স্পিরিট ওয়ার্ল্ড প্রোডাকশনস’। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মরিশাসে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন কয়েক মাস আগেই নেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী যাত্রার প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু পরে মরিশাসের কর্তৃপক্ষ তাদের জানায়, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিবেচনার কারণে অবতরণের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

তবে ঠিক কী কারণে অনুমতি বাতিল করা হয়েছে, সে বিষয়ে মরিশাস সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। ফলে ফ্লাইট বাতিলের সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন ও বক্তব্য সামনে এলেও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

এদিকে ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-কে একটি সূত্র জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় মরিশাসের প্রতিনিধিদলের অনুপস্থিতির সঙ্গে ফ্লাইট বাতিলের ঘটনার কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে এটি একটি সূত্রের দাবি এবং মরিশাস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এর সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চলমান অধিবেশনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ার মধ্যেই ফ্লাইট বাতিলের এই ঘটনা সামনে এলো। ইসরায়েল ও বিভিন্ন দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থানও এ ধরনের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো উল্লেখ করেছে। তবে মরিশাসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না আসা পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের পরবর্তী যাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাদের বিকল্প ব্যবস্থা করতে এয়ার সেশেলস এবং মরিশাসের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছে স্পিরিট ওয়ার্ল্ড প্রোডাকশনস।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং পরবর্তী ভ্রমণের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে। ফ্লাইটটি পুনরায় পরিচালনা করা হবে কি না, কিংবা যাত্রীদের জন্য বিকল্প কোনো রুট নির্ধারণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.