সর্বশেষ বোয়িং চুক্তিতে গোপন এজেন্ডা নেই: হুমায়ুন কবির

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সর্বশেষ বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির পেছনে কোনো গোপন এজেন্ডা নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সর্বশেষ বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির পেছনে কোনো গোপন এজেন্ডা নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, দেশের বিমান চলাচল খাতের প্রয়োজন, বহর সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই নতুন উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় হুমায়ুন কবির বলেন, এভিয়েশন হাব হতে হলে বাংলাদেশের বিমান বহর আরও বড় করতে হবে। দেশের প্রয়োজনের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এর পেছনে কোনো গোপন উদ্দেশ্য নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার জন্য সম্পূরক চুক্তি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে এ চুক্তি সই হয়। নতুন ক্রয়াদেশে রয়েছে পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি ৭৩৭-৮। এর ফলে চলতি বছরে বোয়িংয়ের কাছে বিমানের মোট ক্রয়াদেশ দাঁড়িয়েছে ২৫টি।

বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, নতুন ৭৮৭-১০ উড়োজাহাজগুলো বিমানের বিদ্যমান ৭৮৭-৮ ও ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনারের পরিপূরক হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এগুলো অতিরিক্ত যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা বাড়াবে। অন্যদিকে ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজগুলো একক-আইলভিত্তিক নেটওয়ার্কে তুলনামূলক দীর্ঘ দূরত্বের রুট পরিচালনায় ব্যবহারের সুযোগ দেবে।

বোয়িং জানিয়েছে, নতুন উড়োজাহাজগুলো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ও ৭৩৭ ম্যাক্স পরিবারের উড়োজাহাজগুলো যেসব পুরোনো বিমানের পরিবর্তে ব্যবহৃত হবে, সেগুলোর তুলনায় জ্বালানি সাশ্রয় প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেশি হতে পারে।

বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসাইন বলেছেন, সম্পূরক এই চুক্তি জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটির দীর্ঘমেয়াদি বহর আধুনিকায়ন ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ। তিনি জানান, নির্দিষ্ট প্রয়োজন বিবেচনা করেই নতুন উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছে। বোয়িংয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কও উড়োজাহাজ সরবরাহ ও পরবর্তী সহায়তা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আস্থা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

এর আগে গত ৩০ এপ্রিল বিমান ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার জন্য চুক্তি করেছিল। ওই চুক্তিতে ছিল আটটি ৭৮৭-১০, দুটি ৭৮৭-৯ এবং চারটি ৭৩৭-৮। সর্বশেষ ক্রয়াদেশসহ চলতি বছরের বোয়িং কর্মসূচিতে বিমানের মোট পরিকল্পনায় রয়েছে ১৩টি ৭৮৭-১০, দুটি ৭৮৭-৯ এবং ১০টি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.