বিশ্বসেরা বিমানবন্দরের তালিকায় নেই শাহজালাল

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিশ্বের সেরা ১০০ বিমানবন্দরের তালিকায় জায়গা পায়নি।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিশ্বের সেরা ১০০ বিমানবন্দরের তালিকায় জায়গা পায়নি। এমনকি ভারত ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সেরা ১০ বিমানবন্দরের তালিকাতেও ঢাকার এই প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম নেই। যুক্তরাজ্যভিত্তিক স্কাইট্র্যাক্সের ২০২৬ সালের ওয়ার্ল্ড এয়ারপোর্ট অ্যাওয়ার্ডসের তালিকায় বিশ্বের ১০০ সেরা বিমানবন্দরের মধ্যে ভারতের পাঁচটি বিমানবন্দর রয়েছে।

স্কাইট্র্যাক্সের এই র‌্যাংকিং তৈরি হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যাত্রীদের মতামতের ভিত্তিতে। ২০২৫-২৬ সালের জরিপে ১০০টির বেশি দেশের যাত্রীরা অংশ নেন এবং ৫৭৫টির বেশি বিমানবন্দর মূল্যায়ন করা হয়। চেক-ইন, নিরাপত্তা, ইমিগ্রেশন, লাগেজ, বোর্ডিং, কেনাকাটা ও যাত্রীসেবাসহ বিমানবন্দরে যাত্রীর সামগ্রিক অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়া হয়।

২০২৬ সালের তালিকায় সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দর প্রথম, দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচন দ্বিতীয় এবং জাপানের টোকিও হানেদা তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সেরা বিমানবন্দরের তালিকায় দিল্লি প্রথম, বেঙ্গালুরু দ্বিতীয়, হায়দ্রাবাদ তৃতীয় এবং গোয়া মানোহর চতুর্থ হয়েছে। তালিকায় শ্রীলঙ্কার কলম্বোও সপ্তম অবস্থানে রয়েছে।

আঞ্চলিক বিমানবন্দরের তালিকাতেও শাহজালালের অবস্থান নেই। তবে এখানে বাংলাদেশের চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সপ্তম অবস্থানে রয়েছে।

বিমানবন্দরটির সেবার মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যাত্রীদের বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। লাগেজ পেতে দেরি, ট্রলির সংকট, অতিরিক্ত ভিড়, পরিচ্ছন্নতা, ইমিগ্রেশন ও যাত্রীসেবার মান নিয়ে অভিযোগের পাশাপাশি লাগেজ হারানো বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়ও আলোচনায় আসে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করলেই বিমানবন্দরের সেবার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব নয়। ব্যবস্থাপনা, জনবল, প্রশিক্ষণ, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় এবং যাত্রীসেবার মানসিকতার উন্নয়নও প্রয়োজন।

অন্যদিকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শাহজালালে নির্ধারিত সক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি যাত্রীকে সেবা দিতে হচ্ছে। ফলে বিদ্যমান অবকাঠামোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। এই চাপ কমাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল আংশিকভাবে ১৬ ডিসেম্বর চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শুরুতে প্রায় ২০টি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে এবং পরে ধীরে ধীরে কার্যক্রম বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করেন, তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়বে, কিন্তু আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থাপনা ও পরিচালন পদ্ধতিতেও পরিবর্তন প্রয়োজন।

 

স্কাইট্র্যাক্সের ২০২৬ সালের তালিকায় শাহজালালের অনুপস্থিতি তাই বাংলাদেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সেবার মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন সামনে এনেছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.