মাঝআকাশে ইন্ডিগোর বিমানে বজ্রপাত

মাঝআকাশে বজ্রপাতের কবলে পড়েও বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে ভারতের ইন্ডিগোর একটি উড়োজাহাজ।

মাঝআকাশে বজ্রপাতের কবলে পড়েও বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে ভারতের ইন্ডিগোর একটি উড়োজাহাজ। পাটনা থেকে আহমেদাবাদগামী ইন্ডিগোর ফ্লাইট ৬ই৯২৫ প্রায় ১৭ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকার সময় বজ্রপাতের শিকার হয়। এতে উড়োজাহাজটির সামনের অংশের রেডোম বা নোজ কন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি সামলে বিমানটি লখনউয়ের চৌধুরী চরণ সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করে। উড়োজাহাজটিতে থাকা ১১০ যাত্রীর সবাই নিরাপদ ছিলেন।

ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, এত শক্তিশালী বজ্রপাতের পরও বিমানের ভেতরে থাকা যাত্রীরা কীভাবে নিরাপদ থাকলেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ এমনভাবে নকশা করা হয়, যাতে বজ্রপাতের বৈদ্যুতিক চার্জ মূলত বিমানের বাইরের কাঠামো দিয়ে প্রবাহিত হয়ে অন্য প্রান্ত দিয়ে বের হয়ে যেতে পারে।

বিমানে যাত্রীদের নিরাপত্তার অন্যতম কারণ হলো ‘ফ্যারাডে কেজ’ প্রভাব। বিমানের ফিউজলাজ বা মূল কাঠামো বিদ্যুৎ পরিবাহী উপাদান দিয়ে তৈরি হওয়ায় বজ্রপাতের বিদ্যুৎ সাধারণত বিমানের বাইরের অংশ দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে যাত্রীদের শরীরের মধ্য দিয়ে সরাসরি বৈদ্যুতিক প্রবাহ যাওয়ার ঝুঁকি অত্যন্ত কম থাকে।

বজ্রপাত সাধারণত বিমানের নাক, ডানার ডগা বা অন্যান্য উঁচু অংশে আঘাত করতে পারে। এরপর বৈদ্যুতিক চার্জ বিমানের কাঠামো বরাবর প্রবাহিত হয়ে অন্য প্রান্ত দিয়ে বেরিয়ে যায়। এ সময় যাত্রীরা তীব্র আলোর ঝলকানি, প্রচণ্ড শব্দ বা হঠাৎ ঝাঁকুনি অনুভব করতে পারেন। তবে শুধু বজ্রপাতের কারণে বিমানের ভেতরের যাত্রীদের গুরুতর বিপদের মুখে পড়া সাধারণ ঘটনা নয়।

তবে বজ্রপাত থেকে বিমান পুরোপুরি ক্ষতিমুক্ত থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। এ ঘটনায় ইন্ডিগোর উড়োজাহাজটির রেডোম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রেডোম বিমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কারণ এর ভেতরে আবহাওয়া ও অন্যান্য তথ্য শনাক্ত করার জন্য রাডার ব্যবস্থা থাকে।

বজ্রপাতের পর উড়োজাহাজকে সাধারণত সরাসরি পরবর্তী ফ্লাইটে পাঠানো হয় না। নিরাপদে অবতরণের পর প্রকৌশলীরা বিমানের বিস্তারিত প্রযুক্তিগত পরীক্ষা করেন। রেডোম, ডানা, ফিউজলাজ, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশে কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হয়।

প্রয়োজন হলে মেরামত শেষে এবং নির্ধারিত নিরাপত্তা পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পরই উড়োজাহাজকে আবার যাত্রী পরিবহনে ব্যবহার করা হয়। ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী নিয়ন্ত্রক সংস্থাকেও জানানো হয়।

অর্থাৎ, বিমানে বজ্রপাতের দৃশ্য ভয়াবহ হলেও আধুনিক বাণিজ্যিক উড়োজাহাজে যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য একাধিক ব্যবস্থা থাকে। তাই বজ্রপাত মানেই বিমান দুর্ঘটনার আশঙ্কা—এমনটা নয়। তবে প্রতিটি ঘটনার পর উড়োজাহাজের কারিগরি পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় মেরামত নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN