কোটা না থাকায় আশাভঙ্গ অর্ধলক্ষ হজযাত্রীর : ১১৫ এজেন্সির জরিমানা

হজচলতি বছর পবিত্র হজ পালনের জন্য প্রাক-নিবন্ধন এবং টাকা জমা দিয়েও প্রায় ৬০ হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষ হজে যেতে পারবেন না। সৌদি কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত কোটার বাইরে রেজিস্ট্রেশনের কারণে তারা এবার হজ পালনে বঞ্চিত হচ্ছেন। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে তিন দিন প্রাক-নিবন্ধনকালে হজের টাকা জমা দিতে হয়েছে বেসরকারি হজ গমনেচ্ছুদের। গত বছরও নিবন্ধন করে ৩৭ হাজার ৪৯৪ জন হজে যেতে পারেননি। এ বছর ১০৯৭ এজেন্সি হাজি পাঠাবে। এর মধ্যে সরকারিভাবে ১০ হাজার এবং বেসরকারিভাবে ১ লাখ ১৭ হাজার ১৫৮ জনকে পাঠানোর কথা রয়েছে।

এদিকে ১১৫ হজ এজেন্সি নানা অনিয়মের জড়িয়ে পড়ার পর প্রায় ৪ কোটি টাকা জরিমানা দিয়ে তারা এবারো হাজি পাঠানোর সুযোগ পাচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে গত বছর যেসব এজেন্সি হাজি পাঠিয়েছে তার মধ্যে ৬৩টি এজেন্সি কালো তালিকাভুক্ত হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২৫টি ব্যাংকের ৪৮৭টি শাখার মাধ্যমে মোট ১ হাজার ৯৭টি হজ এজেন্সি প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করে। কোনো কোনো এজেন্সি ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে দীর্ঘ ৫ ঘণ্টায়ও অনুমোদন পায়নি। আবার কোনো কোনো এজেন্সি ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার ১ মিনিটেই অনুমোদন পেয়েছে। যথাসময়ে টাকা জমা দিলেও বিলম্বে^ অনুমোদন পাওয়ার ফলে সিরিয়ালে পেছনে পড়ে যাওয়ায় হাজার হাজার হজ গমনেচ্ছুর হজ পালন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীরা সমস্যা সমাধানে ধর্মমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছেন। মন্ত্রীও প্রাক-নিবন্ধনে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে ধর্ম সচিব আবদুল জলিল  বলেন, নিবন্ধন করেও যারা হজে যেতে পারবেন না, তারা আগামী বছর অগ্রাধিকার পাবেন। এ ছাড়া সারা বছরই অনলাইনে হজ নিবন্ধন করা যাবে। এ জন্য কোনো এজেন্সির কাছে কাউকে যেতে হবে না। দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে যে কেউ নিবন্ধিত হতে পারবেন। তিনি বলেন, এবার যেতে না পেরে কেউ যদি টাকা ফেরত চান তবে ফেরত নিতে পারেন।

এদিকে হজ এজেন্সিস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি ইব্রাহিম বাহার  বলেন, গত ১৯, ২০ ও ২২ ফেব্রুয়ারি এ বছরের প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। শেষ পর্যন্ত দেখা গেছে, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ১৭ হাজার ১৯৮ জনের নির্ধারিত কোটার বাইরে প্রায় ৬০ হাজার হজ করতে ইচ্ছুক মানুষের প্রাক-নিবন্ধন হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে মন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, সৌদি আরব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে হজ কোটা বৃদ্ধি হতে পারে। সৌদি আরব যদি কোটা বাড়ায় তাহলে এই অতিরিক্ত নিবন্ধিতদের অনেকেই এ বছর হজে যেতে পারবেন। আর যদি কোটা না বাড়ায় তা হলে ২০১৮ সালের জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হবে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.