নিরাপত্তা ঝুঁকিতে C-32A-তে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৮ জুলাই তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে প্রচলিত এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহার না করে একটি ছোট সামরিক বিমান ব্যবহার করে দেশটি ছেড়েছিলেন বলে নতুন তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৮ জুলাই তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে প্রচলিত এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহার না করে একটি ছোট সামরিক বিমান, সি-৩২এ, ব্যবহার করে দেশটি ছেড়েছিলেন বলে নতুন তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট (ডব্লিউপি) মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানিয়েছে।

টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ডব্লিউপি জানায়, ট্রাম্পের তুরস্ক ত্যাগের বিষয়টি ছিল একটি পরিকল্পিত নিরাপত্তা কৌশল। ওই সময় হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এমন ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে প্রেসিডেন্ট তখনও এয়ার ফোর্স ওয়ানেই অবস্থান করছেন। ফলে সাংবাদিকসহ হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মীও মনে করেছিলেন, প্রেসিডেন্ট আঙ্কারা থেকে ওই বিমানেই যাত্রা করেছেন।

তবে বাস্তবে ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার পর অল্প সময়ের মধ্যেই একটি ক্যাটারিং গাড়ির মাধ্যমে বিমানবন্দরের অন্য একটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে অপেক্ষমাণ সি-৩২এ সামরিক বিমানে স্থানান্তর করা হয় বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যে দুটি বিমান অবতরণের পর ট্রাম্পকে আবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে দেখা যায়। তবে ছোট সামরিক বিমান থেকে কীভাবে তাকে প্রেসিডেন্টের বিমানে স্থানান্তর করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৮ জুলাই রাতে ট্রাম্পের বিমান পরিবর্তনের সময়ের সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা পুনরায় শুরুর ঘটনাটিও মিলে যায়। একই সময়ে ট্রাম্পকে হত্যার জন্য তেহরানের একটি ষড়যন্ত্র শনাক্ত করা হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে প্রেসিডেন্টের যাত্রাপথ ও ব্যবহৃত বিমান গোপন রাখার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডব্লিউপির প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চেউং বলেন, এয়ার ফোর্স ওয়ান অত্যাধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সমৃদ্ধ একটি বিমান। প্রেসিডেন্ট ও তাঁর কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলেও তিনি জানান।

এর আগে জুলাইয়ের শেষ দিকে মার্কিন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে, কাতারের উপহার হিসেবে পাওয়া নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ ব্যবহার না করে ট্রাম্প পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহার করেছিলেন। কারণ নতুন বিমানটিতে পুরোনো প্রেসিডেন্টের বিমানের মতো একই ধরনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ছিল না বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

নতুন তথ্য প্রকাশের পর ট্রাম্পের ন্যাটো সম্মেলন শেষে তুরস্ক ত্যাগের ঘটনা আবারও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ও প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য বিকল্প সামরিক বিমানের ব্যবহার এবং গোপন বিমান পরিবর্তনের ঘটনা এভিয়েশন ও নিরাপত্তা—দুই ক্ষেত্রেই তাৎপর্যপূর্ণ।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.