৪ বছর পর ফের সরগরম হয়ে উঠছে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। মার্চেই দুইটি বিদেশি এয়ারলাইন্স সরাসরি ফ্লাইট শুরু করেছে শাহ আমানত থেকে। এর মধ্যে মালিন্দো এয়ার চলাচল করছে চট্টগ্রাম থেকে মালয়েশিয়া। আর থাইল্যান্ডের বেসরকারি বিমান সংস্থা থাই স্মাইল এয়ার চট্টগ্রাম-ব্যাংকক রুটে চলাচল করছে। আর মে মাসে ফ্লাইট অপারেট শুরু করার কথা স্পাইস জেটের। এটি চট্টগ্রাম থেকে দিল্লিতে সরাসরি ফ্লাইট শুরু করতে পারে। তবে বন্ধ হয়ে যাওয়া অন্য বিদেশি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট কবে শুরু হবে সংশ্লিষ্টদের কেউ তা নিশ্চিত করে বলছেন না।
শাহ আমানত বিমানবন্দরের ম্যানেজার উইং কমান্ডার রিয়াজুল কবির এ ব্যাপারে জানান, মালিন্দো এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি থাইল্যান্ডের একটি বিমান সংস্থা চট্টগ্রাম-ব্যাংকক ফ্লাইট শুরু করেছে। তবে বন্ধ হয়ে যাওয়া থাই এয়ারের ফ্লাইট এখনও শুরু হয়নি। মে মাসে স্পাই জেট ফ্লাইট চলাচল করার কথা। দুইটির বাইরে নতুন কোনো এয়ারলাইন্স আসেনি। নতুন করে যেসব এয়ারলাইন্স আসার কথা, তারাও খুব বেশি যোগাযোগ করছে না। তাই চলতি বছর হয়তো নতুন আর কোনো এয়ারলাইন্স ফ্লাইট অপারেট শুরু করবে না। তবে বিদেশি নতুন এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত আছে। আগামী বছরের শুরু থেকে আরও কয়েকটি নতুন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট শুরু করতে পারে।
বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্টরা জানান, আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হওয়ার পর প্রত্যাশিত বিদেশি এয়ারলাইন্স ফ্লাইট অপারেটর বাড়েনি। গেল সপ্তাহে শুধু চট্টগ্রাম, মালয়েশিয়া, মালিন্দো এয়ারলাইন্স সরাসরি ফ্লাইট শুরু করে। ২৬ মার্চ থেকে শুরু করে থাইল্যান্ডের বেসরকারি একটি বিমান সংস্থা থাই স্মাইল এয়ার। গেল ৪ বছরে বন্ধ হয়ে যাওয়া কোনো এয়ারলাইন্স ফ্লাইট শুরু করেনি। এসব এয়ারলাইন্সের মধ্যে আছে কুয়েত এয়ারওয়েজ, থাই এয়ারওয়েজ, ফুকেট এয়ারলাইন্স। এতে বিমানবন্দরটির সক্ষমতার ৮০ ভাগ সুযোগই অব্যহৃত থাকছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হওয়ার পর দেড় যুগ সময় পার হলেও প্রত্যাশিত সেবা মিলছে না শাহ আমানত বিমানবন্দরে। বিমানবন্দরের সক্ষমতার শতকরা ৮০ ভাগ সুযোগই ব্যবহার হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হওয়ার পর শুরুর দিকে বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন্স সাড়াও দিয়েছিল। থাই এয়ারওয়েজ, কুয়েত এয়ার, বাহরাইন এয়ার, ফুকেট এয়ার, সিল্ক এয়ারসহ কয়েকটি সংস্থার বিমান চলাচল শুরু করেছিল। যাত্রীদের মধ্যে বেশ সাড়া পড়েছিল। কিন্তু নানা অজুহাতে কয়েক বছরের মধ্যেই তারা কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়। এখন হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি এয়ারলাইন্স ফ্লাইট চালু রেখেছে। এসব ফ্লাইটে চলাচলকারী যাত্রীদের বেশিরভাগ মধ্যপ্রাচ্যের। ৩ বছর ধরে চট্টগ্রাম-ব্যাংকক রুটে থাই ও সিল্ক এয়ারের ফ্লাইট বন্ধ। ৪ বছর ধরে বন্ধ আছে কুয়েত এয়ারের ফ্লাইট।
বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিমানবন্দরে একটি মাত্র রানওয়ে থাকায় একটি বিমান ল্যান্ড না করা পর্যন্ত অন্যটিকে আকাশে উড়তে হয়। ঢাকা বিমানবন্দরে আটটি বিমান একসঙ্গে নামার সুযোগ থাকলেও এখানে নেই। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে বিমানবন্দরে একাধিক বিমান ওঠানামার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়নিÑ এমন অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
নতুন দুইটি ছাড়া বর্তমানে চলাচলকারী এয়ারলাইন্সগুলো হচ্ছে ওমান এয়ার, এয়ার অ্যারাবিয়া, ফ্লাই দুবাই, ইউনাইটেড ও বাংলাদেশ বিমান। এসব এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চট্টগ্রাম থেকে বিদেশে যাত্রী পরিবহন করে। চট্টগ্রাম-ব্যাংকক রুটে থাই ও সিঙ্গাপুর রুটে সিল্ক এয়ার ব্যবসা গুটিয়ে নেয়ার পর এ লাইনে প্রথমে জিএমজি ও পরে বাংলাদেশ বিমান লোকসানের কথা বলে ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়। চট্টগ্রাম-কলকাতা রুটে ইউনাইটেড এয়ার সপ্তাহে একটি মাত্র ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রাম শুধু বাণিজ্য বা পর্যটনের কারণেই দেশি-বিদেশি পর্যটক ও বিনিয়োগকারীদের নিয়মিত চলাচল ও যোগাযোগ আছে। কিন্তু তা অব্যাহত রাখতে শাহ আমানত বিমানবন্দরটি যথেষ্ট সেবা দিতে পারছে না। এতে সরকার বিপুল অঙ্কের আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, শাহ আমানত বিমানবন্দর দিয়ে ব্যবসায়িক কাজে প্রতিদিন প্রচুর বিদেশি আসা-যাওয়া করেন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত প্রবাসীরাও আসা-যাওয়া করেন এ বিমানবন্দর দিয়ে। চট্টগ্রামের প্রচুর লোকজন কুয়েতে কাজ করেন। এক সময় কুয়েত সিটি থেকে সরাসরি ফ্লাইট ছিল এ বিমানবন্দরে। কিন্তু ৫ বছর আগে বন্ধ হয়ে যায় কুয়েত এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট। এতে কুয়েতপ্রবাসী চট্টগ্রামের লোকজন ভিন্ন পথে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। এভাবে ফ্লাইট কমে গেলে বিনিয়োগের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।