বাংলাদেশ বিমানের বিদেশে স্টেশন কর্মচারীদের চাকরি অবসানের চিন্তা

বিমান কর্মকর্তা-কর্মচারী্দের এপ্রিলের বেতন দেয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা

করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সম্প্রতি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স নির্বাহী পরিচালকদের দশম সভায় বিদেশের স্টেশনে স্থানীয় কর্মচারীদের চাকরি অবসান, সব ধরনের ছুটির নগদায়ন বন্ধ, এয়ারক্র্যাফট ইজারাদাতাদের কাছে নোটিশ জারির লক্ষ্যে আইনি নোটিশ প্রস্তুত করাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এ দিকে গত মঙ্গলবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বলাকা ভবন সভাকক্ষে পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে ককপিট ক্রুসহ (পাইলট) বিমানের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর এপ্রিলের বেতন কিভাবে দেয়া যেতে পারে শুধু সে বিষয়ে আলোচনা হয়। অন্য কোনো এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হয়নি। গতকাল বুধবার বিকেলে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোকাব্বির হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন বোর্ড মিটিং হয়েছে। আমাদের হাতে টাকা পয়সাই নেই। কী আর বলব। এখন আমাদের যে পরিস্থিতি চলছে তাতে মিডিয়াতে বলার মতো অবস্থায় আমরা নেই। সময় হলে আবার বলব।
নির্বাহী পরিচালকদের বৈঠকে নেয়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলোর মিনিটস গত ২৬ এপ্রিল তৈরি করা হয়। তিন পাতার এই মিনিটসে স্বাক্ষর করেন বিমানের পরিচালক (প্রশাসন) জিয়া উদ্দিন আহমেদ।
এতে উল্লেখ করা হয়, এয়ারক্র্যাফট ইজারাদাতাদের অনুকূলে (ফোর্স মেজর) নোটিশ জারি করার লক্ষ্যে আইনবিষয়ক উপমহাব্যবস্থাপক ওই নোটিশ প্রস্তুত করে পরিচালকের (পরিকল্পনা) কাছে অতিদ্রুত প্রেরণ করবেন। এতে নির্বাহী পরিচালকমণ্ডলী কর্তৃক মহাব্যবস্থাপকের (প্রশাসন) নেতৃত্বে মহাব্যবস্থাপক (ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস), ব্যবস্থাপক (বেতন) এবং প্রয়োজনে অন্য যেকোনো কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করার কথা বলা হয়েছে। কমিটি বেতন-ভাতা পরীক্ষাপূর্বক ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনকাঠামো পর্যালোচনা ও পরীক্ষা করবে এবং প্রতিবেদন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইওর কাছে উপস্থাপন করবে।
বিমানের সঙ্কুচিত ব্যবসায়িক কার্যক্রম থেকে উত্তরণে নেয়া পরিচালকদের পদক্ষেপ হিসেবে এখন থেকে সব ধরনের ছুটি নগদায়ন বন্ধ রাখার পাশাপাশি বিদেশের স্টেশনে ব্যয় হ্রাসের লক্ষ্যে সবধরনের আইনি/ আর্থিক জটিলতা এড়িয়ে স্থানীয় কর্মচারীদের চাকরি অবসান করা যেতে পারে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য পরিচালক (বিপণন ও বিক্রয়) বিদেশের স্টেশনগুলোর সব কান্ট্রি ম্যানেজারের সাথে সংশ্লিষ্ট দেশের আইনি বাধ্যবাধকতাগুলো/ স্থানীয় নিয়মকানুন (যদি থাকে) সম্পর্কে আলোচনা করে এক সপ্তাহের মধ্যে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবসহ একটি প্রতিবেদন বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পেশ করার জন্য মিনিটসে বলা হয়েছে। এ ছাড়াও নির্বাহী পরিচালকের সভায় আরো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে বিমানের বলাকা ভবন সূত্রে জানা গেছে।
এর মধ্যে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সব ধরনের নিয়োগকার্যক্রম বন্ধ থাকবে। কেবল বিশেষ ক্ষেত্রে নিয়োগের কার্যক্রম গ্রহণ করা যেতে পারে। সিদ্ধান্তের মধ্যে বিমান থেকে অবসর গ্রহণের পর চুক্তিবদ্ধ ১১ জন এবং ২০১৯ সাল থেকে চুক্তিভিক্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত ছয়জন পাইলটকে ৬ এপ্রিল থেকে বিনা বেতনে ছুটি প্রদানের কথা উল্লেখ রয়েছে।
প্রশাসনিক আদেশে আরো বলা হয়, করোনা পরিস্থিতি চলাকালে ফ্লাইট ক্রু ইউনিফর্ম হিসেবে জ্যাকেট এবং ক্যাপ পরিধান বাধ্যতামূলক নয়। কোনো ক্রুর করোনা টেস্টের ফলাফলে পজেটিভ হলে তাকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্ধারিত হাসপাতালে প্রেরণ করতে হবে। কোম্পানির নীতিমালা অনুযায়ী আক্রান্তদের পূর্ণ সহযোগিতা এবং অন্যান্য সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.