বিমানের এক কর্মকর্তা বলেন, বিমানের প্রতিটি বদলি ও নিয়োগে টাকার খেলা চলে। যারা টাকা খরচ করতে পারেন তারা ভালো পোস্টিং পান। বিদেশে পোস্টিং পেতে আরও বেশি টাকা লাগে। ২০০৭ সালে বিমানকে কোম্পানি করার সময় ট্রেড ইউনিয়ন নিয়ন্ত্রণ করার শর্ত দেওয়া হয়েছিল। কার্যত বিমানে ট্রেড ইউনিয়ন নিয়ন্ত্রণে তো আসেইনি বরং সেই সময়ের তুলনায় এখন এর কার্যক্রম বেড়েছে বহুগুণ। ২০০৭ সালে ট্রেড ইউনিয়ন ছিল উন্মুক্ত। আর এখন ট্রেড ইউনিয়ন নিয়ন্ত্রিত।
বেতন কাটা নিয়ে কর্মীদের ক্ষোভ : করোনার সময়ে বিমানের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন কাটা হচ্ছে। এই নিয়ে কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে প্রেষণে আসা ৫ শীর্ষ কর্মকর্তার বেতন কাটা হচ্ছে না। চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল বিমান পরিচালনা পর্যদের ২৩৮তম সভায় এই সিন্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ৫ মে পরিচালক (প্রশাসন) জিয়াউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে নতুন করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আদেশ অনুযায়ী বেতনক্রম ১ থেকে ৩ (২) পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মোট বেতন (গ্রস স্যালারি) থেকে ১০ শতাংশ কর্তন করা হবে। বেতনক্রম ৪-৫ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের ১৫ শতাংশ, ৬-৮ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের ২০ শতাংশ এবং ৯ থেকে ওপরের কর্মকর্তাদের ২৫ শতাংশ বেতন কাটা হবে। অন্যদিকে পাইলটদের ক্ষেত্রে যাদের চাকরির বয়স ১ থেকে ৫ বছরের মধ্যে তাদের আউট স্টেশন অ্যালাউন্স কাটার পর যে বেতন থাকবে তার ২৫ শতাংশ কাটা হবে। যাদের চাকরির বয়স ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে তাদের ক্ষেত্রেও আউট স্টেশন অ্যালাউন্স কাটার পর যে বেতন থাকবে তার ৩০ শতাংশ কাটা হবে। এছাড়া যাদের চাকরির বয়স ১০ বছরের বেশি তাদের ক্ষেত্রেও একই নিয়মে মোট বেতনের ৫০ শতাংশ কাটা হবে। নতুন আদেশে আরও বলা হয়, বিমানে প্রেষণে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বেতন কাটা হবে না। তবে তারা অন্য কোনো সুবিধা পেয়ে থাকলে কিংবা বিমান থেকে বিশেষ ভাতা পেয়ে থাকলে সেখান থেকে ২৫ শতাংশ কাটা হবে। ক্যাজুয়াল কর্মীদের ক্ষেত্রে বেতন কাটা না হলেও তাদের বেতন-ভাতা মাসে ২২ দিন অনুসারে দেওয়া হবে। বিমানের প্রশাসনিক শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, করোনার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিমানের কোনো আয় নেই। করোনার জন্য আমাদের পর্যটনের সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বিমানের শুধু এপ্রিল মাসেই বেতন, কিস্তি ও অন্যান্য ব্যয়ের জন্য দরকার ৬২৮ কোটি টাকা। মে মাসেও একই অবস্থা বিরাজ করছে।
এ প্রসঙ্গে বিমান শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. মশিকুর রহমান বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাটা হচ্ছে। এতে আমাদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে না। বিমান এমডির সঙ্গে দেখা করার সময় চেয়ে তা পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি আমাদের সাক্ষাৎ দিচ্ছেন না। এক অফিসে দুই নিয়ম চলছে। প্রেষণে যারা এসেছেন তাদের বেতন কাটা হচ্ছে না। অথচ আমাদের বেতন কাটা হচ্ছে। তিনি বলেন, বেতন কাটার ফলে অনেকে চরম অনিশ্চতায় আছেন। এগুলো সুরাহায় মন্ত্রী ও সচিব মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।