তিন ব্রিটিশ বিমান সংস্থা কোয়ারেন্টিন আইনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে যুক্তরাজ্যে অন্য যেকোনো দেশ থেকে প্রবেশ করলেই বাধ্যতামূলকভাবে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। এতে করে অনেকেই এখন যুক্তরাজ্যে ভ্রমণ করতে আগ্রহ বোধ করছেন না, ফলে বিমানের যাত্রীও কমে গেছে। ব্রিটিশ সরকারের এই কোয়ারেন্টিন আইনকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে নথিপত্র জমা দিয়েছে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, ইজিজেট ও রায়ানএয়ার।

এক যৌথ বিবৃতিতে তিন বিমান সংস্থা নিষেধাজ্ঞাকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, এটা যুক্তরাজ্যের পর্যটন ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে এবং হাজারো মানুষের চাকরি ধ্বংস করছে।

বৃহস্পতিবার তিন কোম্পানি ঐক্যবদ্ধ হয়ে হাই কোর্টে নথিপত্র জমা দিয়ে জুডিশিয়াল রিভিউর আবেদন করেছে এবং যতটা সম্ভব দ্রুত শুনানির আহ্বান জানিয়েছে। গ্রুপটি বলছে, যুক্তরাজ্য এবং অন্য দেশগুলোর সঙ্গে প্রস্তাবিত ‘এয়ার ব্রিজ’ কখন ও কীভাবে চালু হবে, সে ব্যাপারে পরিষ্কার কোনো নির্দেশনা নেই। এয়ার ব্রিজ পদ্ধতি বলতে বোঝানো হয়েছে অর্থ হলো, দুই দেশের কভিড-১৯ সংক্রমণের মাত্রা যখন কাছাকাছি থাকবে তখন ওই দুই দেশের নাগরিকদের ভ্রমণের পর আইসোলেশনে থাকার প্রয়োজন পড়বে না। এদিকে ১৫ জুন থেকে ইউরোপের অধিকাংশ দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত খুলে দেয়া হচ্ছে।

লকডাউন শিথিল করা হলেও যুক্তরাজ্যে কিছু কিছু নিয়মে কড়াকাড়ি আরোপ করা হয়েছে। গেল ৮ জুন থেকে যুক্তরাজ্যে আগতদের নিজেদের নির্দিষ্ট ঠিকানা দিয়ে দুই সপ্তাহের জন্য আইসোলেশনে দেওয়া হয়। এ আইনকে নিজেদের ব্যবসার জন্য বিরাট ক্ষতিকর হিসেবে দেখছে বিমান কোম্পানিগুলো।

এ সপ্তাহে ২৯০টি বিমান সংস্থার প্রতিনিধিত্বকারী ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (ইয়াটা) জানিয়েছে, করোনা মহামারীর কারণে বিমান সেক্টরটি চলতি বছর ৭৪ বিলিয়ন ইউরো ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে। ২০২০ সালকে ‘বিমানসেবার ইতিহাসেই সবচেয়ে খারাপ’ বছর হিসেবে অভিহিত করেছে ইয়াটা। বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় অধিংকাশ সংস্থাই কর্মী ছাঁটাই করছে। এছাড়া বিমান তৈরির কোম্পানিগুলোও কর্র্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে, কেননা নতুন বিমানের অর্ডার কমে যাওয়ায় তাদের আয়ও কমে গেছে।

সূত্র: ইউরো নিউজ

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.