করোনা আতঙ্কে ঝুঁকির মুখে এভিয়েশন খাত

এভিয়েশন নিউজ ডেস্ক : করোনার সংক্রমণ মোকাবেলায় প্রায় তিন মাস বন্ধ থাকার পর গত ১ জুন থেকে অভ্যন্তরীণ রুট ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, সৈয়দপুর এবং পরবর্তীতে যশোর রুটে ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি দেয়।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে একটি উড়োজাহাজ তার ধারণক্ষমতার ৭৫ শতাংশ যাত্রী নিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে। এমন শর্ত দিলেও আকাশপথে কাঙ্ক্ষিত যাত্রীর দেখা মিলছে না। অর্ধেকের কমসংখ্যক যাত্রী নিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করতে হচ্ছে এয়ারলাইন্সগুলোকে।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স জানায়, অভ্যন্তরীণ চারটি রুটে প্রতিদিন ৩২টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে তারা। ফ্লাইট চালুর পর থেকে তাদের গড় যাত্রীর সংখ্যা থাকছে প্রায় ৬০ ভাগ। যাত্রীদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় স্বাস্থ্যবিধিগুলো সুচারুভাবে পালন করে ইউএস-বাংলা ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

ভাড়ার বিষয় বিবেচনায় না নিয়ে যাত্রীদের সেবার বিষয়টি মাথায় রেখে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। তবে একান্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনো যাত্রী এখন এক গন্তব্য থেকে অন্য গন্তব্যে যাচ্ছেন না।

নভোএয়ারের অবস্থাও একই। ৫০ থেকে ৫৫ ভাগ যাত্রী নিয়ে তারা ফ্লাইট পরিচালনা করছে।করোনার প্রাদুর্ভাব বাড়ায় অনেকেই আতঙ্কিত। বেসরকারি এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠান রিজেন্ট এয়ারওয়েজ মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে তিন মাসের জন্য সবধরনের ফ্লাইট চলাচল স্থগিত রেখেছে।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, দেশের এভিয়েশন খাতকে বাঁচাতে দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর এভিয়েশন চার্জ (অ্যারোনটিকাল ও নন-অ্যারোনটিকাল উভয়ই) মওকুফের জন্য একটি প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এই প্রণোদনা প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের এয়ারলাইন্সগুলোকে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য ২০২১ সাল পর্যন্ত কোনো অ্যারোনটিকাল চার্জ দিতে হবে না।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত চার্জ ৫০ শতাংশ মওকুফ করার সুপারিশ করা হয়েছে। সেই বিষয়ে এখনও কোনো আপডেট পাওয়া যায়নি।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা এয়ারলাইন্সকে প্রণোদনা ও আকর্ষণীয় অফারের মাধ্যমে যাত্রীর সংখ্যা বাড়ানোর কথা বললেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বেবিচক বলছে, করোনা আতঙ্ক না কাটলে যাত্রীর সংখ্যা বাড়বে না। করোনার প্রাদুর্ভাব কমলে আস্তে আস্তে যাত্রীর সংখ্যা বাড়বে।

আন্তর্জাতিক রুটের অবস্থাও খুব বেশী ভাল নয় যাত্রী যাচ্ছে বেশি, ফিরছেন কম। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক রুটে চীন, মধ্যপ্রাচ্যের কাতার-দুবাই (ট্রানজিট) ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে (শুধুমাত্র লন্ডন) উড়োজাহাজ চলাচল চালু রয়েছে। রুটগুলোতে ঢাকা থেকে যাত্রী গেলেও দেশে আসছেন কম।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ঢাকা থেকে চীনের গুয়াঞ্জু রুটের ফ্লাইটে যাত্রী সংখ্যা অনেক কমেছে। প্রতিদিন গড়ে ঢাকা থেকে গুয়াঞ্জু যাচ্ছেন ১০০ জন, ঢাকা ফিরছেন ২০ থেকে ২৫ জন।

সপ্তাহে একদিন ফ্লাইট পরিচালনাকারী বিমান বাংলাদেশের প্রথম ফ্লাইটে লন্ডন গেছেন ১৮৭ জন। যাওয়ার সময় ফ্লাইটটি প্রায় ভরা থাকলেও ঢাকায় ফেরার সময় যাত্রী সংখ্যা ছিল মাত্র ২৮ জন।

সপ্তাহে তিনদিন করে ফ্লাইট পরিচালনাকারী কাতার এয়ারওয়েজ ও এমিরেটসের ফ্লাইট ঢাকা থেকে ছাড়ার সময় প্রায় ভরা থাকলেও বাংলাদেশে খুব কম লোকই আসছেন।

এদিকে, কার্গো পরিবহন ক্ষমতা বাড়াতে ইকোনমি শ্রেণির কেবিন সরিয়ে কার্গো বিমানে রূপান্তর করছে এমিরেটস। এয়ারলাইনস প্রতিষ্ঠানটির কয়েকটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজে ইকোনমি শ্রেণির যাত্রী আসনগুলো সরিয়ে কার্গো পরিবহনের উপযোগী করে তুলছে। রোববার (২৮ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় এমিরেটস বাংলাদেশ।

১৬ জুন থেকে ঢাকা-লন্ডন রুটে, পরবর্তীতে কাতার রুটে এবং ২১ জুন থেকে এমিরেটসকে ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি দেয় বেবিচক। এখনও অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে মালয়েশিয়ান এয়ার, মালিন্দো এয়ার, এয়ার অ্যারাবিয়া, ফ্লাই দুবাই ও টার্কিশ এয়ারলাইন্স।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.