‘শাজাহান খানের মেয়ের করোনার ভুল রিপোর্টের দায় ল্যাবের’

সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খানের মেয়ের ভুলবশত নেগেটিভ রিপোর্ট দেওয়া হয়।
প্রকৃত রিপোর্ট পজিটিভ; পরে ঠিক করা হয় বলে দাবি করেছেন করেছেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারের পরিচালক প্রফেসর ডা. আবুল খায়ের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ভুলের দায় স্বীকার করে ক্ষমা চান।
এর আগে করোনা টেস্টের রিপোর্ট সম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খান।

ডা. আবুল খায়ের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান বলেন, প্রথমে যেটি যায় সেটি নেগেটিভ একটি রিপোর্ট যায়।
দ্বিতীয় দফায় যাত্রীদের রিপোর্ট যখন আমরা সফটওয়্যারে এন্ট্রি দিতে যাবো, তখন সামগ্রিক পরীক্ষা নিরীক্ষার পর দেখা যায় ওই রিপোর্ট আসলে নেগেটিভ না। সেটি পজিটিভ। তখন আমাদের সমন্বয়কারী সব রিপোর্টের প্রিন্ট কপি বের করে সব রিপোর্ট আমার স্বাক্ষর দিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবার প্রস্তুত করেন এবং আগের মতো ইমেইলে পাঠিয়ে দেন। তখন এই ডাটা আমরা সফটওয়্যারে এন্ট্রি করে দেই। সেখানে ঐশী খানের ফলাফল পজিটিভ হিসেবেই এন্ট্রি করা হয়।

তিনি বলেন, এমআইএস থেকে অটো জেনারেট হয়ে রিপোর্ট ডিএনসিসি বুথে যায়। কিন্তু সেদিন যেহেতু আমাদের এখানে একটি সমস্যা ছিল, তাই আমরা রিপোর্টগুলো সরাসরি এমআইএস এ পাঠাতে পারিনি। সরাসরি ইমেইলে পাঠাই। কিন্তু ডাটা এন্ট্রির সময়ে সফটওয়্যারে পজিটিভ করাই ছিল। তিনি (ঐশী খান) নেগেটিভ রিপোর্ট নিয়েই বিমানবন্দরে যান। আমরা যে ইমেইল দিয়েছিলাম তার ভিত্তিতেই ইমিগ্রেশন বলে উনি পজিটিভ। ঐশী খান যেই রিপোর্ট হাতে করে নিয়ে গিয়েছিলেন এই রিপোর্ট আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ভুল করে করা হয়েছিল। যেটি আমরা সংশোধন করেছি পরবর্তী ইমেইলের মাধ্যমে।

পরিচালক আরও বলেন, আমাদের এখানেই ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের ভুলের জন্য ওনার কাছে নেগেটিভ রিপোর্টটি যায়।
এর কারণে জনসম্মুখে তিনি হেয় হয়েছেন। সেটা আমরা স্বীকার করি। আমরা এটি আরও খতিয়ে দেখছি। যিনি ভুলটি করেছেন তিনি সাময়িক সময়ের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত। তার বিরুদ্ধে আমরা শিগগিরই ব্যবস্থা নেবো।

এর আগে করোনা টেস্টের এমন ভুল রিপোর্টের বিষয়ে স্বাস্থ্যঅধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খানের মেয়ে ঐশী খান। এসময় দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান শাহজাহান খান।

স্বাস্থ্যঅধিদপ্তরে অভিযোগপত্রে ঐশী খান জানান, পড়া লেখার জন্য ইংল্যান্ডে যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে গত ২৪ জুলাই নিজের করোনা টেস্টের জন্য নমুনা দেয়ার পরদিন রিপোর্টে করোনা নেগেটিভ আসে। ফলে ২৬ জুলাই লন্ডনের উদ্দেশে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান তিনি। তবে সার্ভারে তার করোনা পজেটিভ রিপোর্ট পাওয়ায় তাকে বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। পরবর্তিতে যেটি করোনা পজেটিভ হিসেবেই ধরা পড়ে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.