বিমানের সিডিউল বিপর্যয়ে দুর্ভোগ চরমে

imagesবিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৪টি উড়োজাহাজের মধ্যে ৪টি বিকল। তিনটি বোয়িংসহ একটি এয়ারবাস বসে গেছে। এছাড়া মিসর থেকে আনা একটি বোয়িং খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। দুটি দিয়ে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চালানো হচ্ছে। এ অবস্থায় ১৫টি আন্তর্জাতিক রুটে বিমানের ফ্লাইট সিডিউলে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন গড়ে ৩টি ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ের ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টা বিলম্বে যাচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বিমানযাত্রীরা।
চলতি মাসজুড়ে সিডিউল বিপর্যয়ের আশংকা আছে। এ মাসের ১৮ তারিখ পর্যন্ত সিডিউল বিপর্যয়ের বিষয়টি যাত্রীদের অগ্রিম জানিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে ২-৩ দিনের মধ্যে বিমানবহরে একটি এয়ারবাস যুক্ত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সিডিউল বিপর্যয় কিছুটা সহনীয় হবে বলে মনে করেন বিমানে একাধিক সূত্র।
এ প্রসঙ্গে বিমান চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল ইনামুল বারী বলেন, মঙ্গলবার টেকঅফের আগমুহূর্তে বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ায় সিডিউল কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে বিলম্বের এই খবরটি অগ্রিম যাত্রীদের জানিয়ে দেয়া হচ্ছে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি কম হচ্ছে।
জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হচ্ছে রিয়াদ, দাম্মাম, কুয়েত, মাসকাট ও দুবাইয়ের যাত্রীদের। একই অবস্থা ফিরতি যাত্রীদেরও। প্রবাসী বিমানযাত্রীদের অভিযোগ, কর্মস্থলে ছুটি মঞ্জুর করানো, দেশে আসার সিডিউল, বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফেরার মাইক্রোবাস ভাড়া সবকিছু চূড়ান্ত করেই তারা বিমানের টিকিট কিনেন। ফ্লাইট সিডিউলি ঠিক না থাকলে তাদের সবকিছুই লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। এতে তাদের নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।
বিমান সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরে সাতটি রুট ছাড়াও ১৫টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে বাংলাদেশ বিমান তাদের ফ্লাইট পরিচালনা করছে। সব মিলিয়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের জন্য বিমানবহরে ১৪টি উড়োজাহাজ আছে। ছয়টি নিজস্ব ও আটটি লিজ নেয়া। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক রুটে চলাচল করে এমন চারটি এয়ারক্রাফট বিকল এবং একটি চলছে খুঁড়িয়ে। ফলে আন্তর্জাতিক রুটে বিমানের সিডিউল ঠিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
শুক্রবারের ঘটনা। আবুধাবি যাওয়ার উদ্দেশে শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন ৪১৯ জন যাত্রী। বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট ঢাকা থেকে বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে চট্টগ্রাম হয়ে আবুধাবি যাওয়ার কথা। কিন্তু বিমান ছাড়ার মাত্র আধা ঘণ্টা আগে জানানো হল, ফ্লাইট অনিশ্চিত। যেতে হলে রুট পরিবর্তন করে দুবাই হয়ে যেতে হবে। এ নিয়ে বিমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শুরু হয় যাত্রীদের বাকবিতণ্ডা। এক পর্যায়ে ৪০-৫০ জন যাত্রীর সিট পরিবর্তন করে অন্য একটি ফ্লাইটে দুবাই পাঠানো হয়। বাকিদের নিয়ে অপর একটি ফ্লাইট রাত ৮টা ২০ মিনিটে আবুধাবি যায়। এতে দুবাই হয়ে যাওয়া যাত্রীরা যেমন ভোগান্তিতে পড়েন তেমনি ঢাকা থেকে বিলম্বে ছেড়ে যাওয়া বিমানের যাত্রীদেরও পড়তে হয় চরম বিপাকে। এ নিয়ে বিমান কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো সহমর্মিতা পাননি যাত্রীরা। মঙ্গলবার বিকাল সোয়া ৫টায় একটি নতুন বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর উড়োজাহাজ ঢাকা থেকে দাম্মাম যাওয়ার কথা। ফ্লাইট ছাড়ার আগমুহূর্তে ডানপাশের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। বিপাকে পড়েন ৪১২ জন যাত্রী। পরে প্রায় ৫ ঘণ্টা পর অপর একটি এয়ারক্রাফটে যাত্রীদের দাম্মাম পাঠানো হয়।
বৃহস্পতিবার কুয়েতের ফ্লাইটটিও নির্ধারিত সময়ের ১২ ঘণ্টা পর ঢাকা ছেড়েছে। রিয়াদগামী একটি ফ্লাইট বুধবার নির্ধারিত সময়ের ৭ ঘণ্টা পর ঢাকা ছেড়েছে। গত সপ্তাহে মাসকটগামী একটি ফ্লাইট ৯ ঘণ্টা পর ঢাকা ছেড়েছে। একইভাবে রিয়াদ, দাম্মাম, কুয়েত ও মাসকাট বিমানবন্দর থেকে যেসব ফ্লাইট আগে ঠিক করা ছিল সেগুলোও ঢাকায় পৌঁছতে দেরি হচ্ছে। এতে যাত্রীদের আত্মীয়-স্বজনরা বিমানবন্দরে এসে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ঢাকার বাইর থেকে মাইক্রোবাস ভাড়া করে বিপুল অংকের টাকা আর্থিক গচ্চা দিচ্ছেন স্বজনরা। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, এ ধরনের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিমান নিজেই। কারণ প্রবাসী যাত্রীরা যদি কোনো কারণে এরকম ভোগান্তির মুখে পড়েন তাহলে দ্বিতীয় দফায় তারা আর বিমানের টিকিট করেন না।
এদিকে আগামী ৪ আগস্ট থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে। তখন কমপক্ষে ২টি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজকে শুধু হজ ফ্লাইটের জন্য নির্ধারিত রাখা হবে। মঙ্গলবার বিকল হওয়া বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজটি হজের আগে ঠিক না হলে হজের সময়ও সব আন্তর্জাতিক রুটে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশংকা আছে।
বিমানের পরিচালক প্ল্যানিং বেলায়েত হোসেন বলেন, হজ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য একটি সুপরিসর বোয়িং ৭৪৭ উড়োজাহাজ লিজ নেয়া হচ্ছে। চলতি মাসের মধ্যে লিজ চুক্তি সম্পন্ন হবে। এতে সিডিউল তেমন কাটছাঁট কিংবা পরিবর্তন করতে হবে না।

সূত্রঃ যুগান্তর

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.