শাহজালালের কার্গো অপারেশন ২৪ ঘণ্টা চালুর নির্দেশ

২৪ ঘণ্টা কার্গো অপারেশন চালুর নির্দেশনা দিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় জমে থাকা বিপুল পণ্যজট দ্রুত নিরসনে ২৪ ঘণ্টা কার্গো অপারেশন চালুর নির্দেশনা দিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। রোববার (৭ জুন) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কার্যালয়ে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

সম্প্রতি বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং দীর্ঘদিনের পণ্যজট নিয়ে আলোচনা করতেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে জানানো হয়, বর্তমানে শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৬০০ টন পণ্য আটকে আছে। এ অবস্থায় আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে জট কমানোর লক্ষ্যে ছুটির দিনসহ সার্বক্ষণিক কার্গো কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ, ডিএইচএল এক্সপ্রেস বাংলাদেশ, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

ব্যবসায়ী নেতারা বৈঠকে কার্গো ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার বিষয় তুলে ধরেন। তাদের মতে, ২৪ ঘণ্টা অপারেশন চালু রাখার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হলেও বাস্তবে তা কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবল বাড়ানো জরুরি। বর্তমানে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কাছে পর্যাপ্ত হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট নেই বলে অভিযোগ করা হয়।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ৪৫ থেকে ৫০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর মধ্যে মাত্র ৫ থেকে ৭টি চার্টার্ড কার্গো ফ্লাইট হলেও অধিকাংশ পণ্য এসব ফ্লাইটের মাধ্যমেই আসে। ফলে নিয়মিত পণ্য খালাসে বিলম্ব হচ্ছে এবং গড়ে একটি চালান ছাড় করতে প্রায় ১১ দিন সময় লাগছে।

বৈঠকে গত শুক্রবার রাতে কার্গো ভিলেজে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের বিষয়েও আলোচনা হয়। তবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। ঘটনাস্থলের পাশে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও কিছু তার পাওয়া গেলেও শর্ট সার্কিটের প্রমাণ মেলেনি। একই সঙ্গে সেখানে সিগারেটের অবশিষ্টাংশও পাওয়া গেছে, যা তদন্তকারীদের নতুন করে ভাবাচ্ছে।

বেবিচক জানিয়েছে, কার্গো ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধি, অগ্নিনিরাপত্তা জোরদার এবং পণ্যজট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সার্বক্ষণিক অপারেশন চালু হলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে গতি ফিরে আসবে এবং ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN