সরকার সমর্থিত শ্রমিক নেতাদের তোপের মুখে পহেলা জুলাই থেকে পে-স্কেল কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে বিমান। আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূল বেতনের ৭৫ শতাংশ বোনাস হিসেবে পাবেন। গত বছরের জুলাই থেকে পে-স্কেলের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হবে। শনিবার অবরুদ্ধ অবস্থায় বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব.) এনামুল বারী চৌধুরী এ ঘোষণা দেন।
এ প্রসঙ্গে বোর্ড চেয়ারম্যান এনামুল বারী সাংবাদিকদের জানান, সরকার গত জুলাই মাসে পে-স্কেল ঘোষণা করেছে। এরই মধ্যে সবাই তা বাস্তবায়নও করে ফেলেছে। অর্থ সংকটের কারণে বিমান এই পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে পারছে না। তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে তাদের বেতনের ৭৫ শতাংশ ঈদ বোনাস দেয়া হয়েছে। পে-স্কেল কার্যকরের পর এই টাকা সমন্বয় করা হবে।
জানা গেছে, শ্রমিক নেতারা শনিবার পরিচালনা পর্ষদ চেয়ারম্যানকে দীর্ঘ সময় বিমানের প্রধান কার্যালয় বলাকা ভবনে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন পর্ষদ সদস্য ব্যারিস্টার তানজিব উল আলম। বোর্ডে বাকি ১১ সদস্য ভয়ে বলাকা ভবনের বিকল্প সিঁড়ি ব্যবহার করে সভাস্থল ছাড়েন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে বোর্ড চেয়ারম্যান পে-স্কেল কার্যকর ও ৭৫ ভাগ বোনাস এবং বকেয়া পরিশোধ সংক্রান্ত ঘোষণা দেন। সিবিএ সভাপতি মসিকুর রহমানের নেতৃত্বে এই অবরুদ্ধ কর্মসূচি চলে। চেয়ারম্যানের এই ঘোষণার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। এরপর তিনি বাসায় ফিরে যান।
সূত্র জানায়, সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার দুপুরে এয়ারপোর্ট সংলগ্ন বলাকা ভবনে আয়োজন করা হয় বিমানের পর্ষদ সভা। মুল এজেন্ডা ছিল প্রতিষ্ঠানটিতে সরকার ঘোষিত পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা। দুপুরে যথারীতি পর্ষদ সভা শুরু হয়। সভায় পে-স্কেল ঘোষণার পরিবর্তে পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদকে প্রধান করে একটি উপকমিটি গঠন করা হয়। এ উপকমিটি যাচাই-বাছাই করে যে সিদ্ধান্ত দেবে তার আলোকে আগামী মাসে পে-স্কেল কার্যকরের ঘোষণা দেয়া হবে। জানা গেছে, বোর্ড সভা শেষ হওয়ার আগেই এই সিদ্ধান্তের কথা সিবিএ নেতাদের কাছে পৌঁছে যায়। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক বিমানের কার্গো, অপারেশন, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, মোটর ট্রান্সপোর্ট, গ্রাউন্ড সাপোর্ট ইকুইপমেন্ট (জিএসই) বিএফসিসি বিভাগের কয়েক হাজার শ্রমিক কর্মচারী বিমানের বলাকা ভবন ঘেরাও করে স্লোগান দিতে থাকে। খবর পেয়ে আশপাশের এলাকা থেকে বিভিন্ন বিভাগের শ্রমিক নেতারাও এসে তাদের সঙ্গে যোগ দেন। শ্রমিক নেতারা পে-স্কেল কার্যকরের ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত সব বোর্ড মেম্বারকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘোষণা দেন। এ অবস্থায় বোর্ড সভা শেষ করেন চেয়ারম্যান। বিমান চেয়ারম্যান এনামুল বারীর নেতৃত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, বিমান সচিব এসএম গোলাম ফারুক, সাবেক শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম (এনআই) খান, বিমান বাহিনীর সহকারী চিফ অব এয়ার স্টাফ (অপারেশন অ্যান্ড ট্রেনিং) এয়ার ভাইস মার্শাল এম নাঈম হাসান, সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইন চিফ মেজর জেনারেল সিদ্দিকুর রহমান সরকার, সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এহসানুল গণি চৌধুরী, সাবেক অতিরিক্ত সচিব তাপস কুমার রয়, ব্যারিস্টার তানজিব উল আলম, বিজিএমইএ’র প্রেসিডেন্ট ছিদ্দিকুর রহমান, এনকেএ মবিন ও বিমান এমডি ক্যাপ্টেন মুসাদ্দিক আহমেদ।
বিমানের ফাইন্যান্স শাখা সূত্রে জানা গেছে, পে-স্কেল কার্যকর হলে প্রতি বছর বিমানে অতিরিক্ত ১০০ কোটি টাকা খরচ হবে। বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য সরকার পে-স্কেল ঘোষণা করেছে। একমাত্র বিমান ছাড়া সব সংস্থা ও কোম্পানি এই পে-স্কেল কার্যকর করেছে। গত অর্থবছরে বিমান প্রায় ২১০ কোটি টাকা লাভ করেছে। এই অর্থবছরেও বিমান সমপরিমাণ অর্থ লাভ করবে। কিন্তু তারপরও তাদের পে-স্কেল কার্যকরে সময়ক্ষেপণ করছে সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা। এই পে-স্কেল বাস্তবায়ন করার জন্য সিবিএ বহু আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করলেও বিমান কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়ন করেনি। ফলে এবার বাধ্য হয়ে তারা বোর্ড চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
সূত্রঃ যুগান্তর
