বিমানের সাবেক এমডির স্ত্রীর শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন মামলায় জামিন নাকচ
বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাফিকুর রহমানের স্ত্রী বীথি এবং গৃহকর্মী সুফিয়া বেগমের জামিন আবেদন নামঞ্জুর
শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাফিকুর রহমানের স্ত্রী বীথি এবং গৃহকর্মী সুফিয়া বেগমের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৪ মে) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-২ আদালত শুনানি শেষে তাদের জামিন আবেদন খারিজ করে দেন।
আদালত সূত্র জানায়, মামলাটির তদন্ত এখনো চলমান থাকায় এবং এটি একটি আলোচিত ও সংবেদনশীল মামলা হওয়ায় এ পর্যায়ে আসামিদের জামিন দেওয়া সমীচীন নয় বলে আদালত মত দেন। আদেশে আদালত উল্লেখ করেন, প্রধান আসামি বীথি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। একইভাবে অপর আসামি সুফিয়া বেগমও জবানবন্দিতে নির্যাতনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে আদালত পর্যবেক্ষণ করেন।
আসামিপক্ষের হয়ে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ আহমেদ গাজী, আনোয়ারুল কবীর বাবুল, ইদ্রিস আলী, শরিফুল ইসলাম ও সানাউল হক টিপু। পরে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের জামিন আবেদন নাকচ হলে মহানগর দায়রা জজ আদালতে নতুন করে আবেদন করা হয়।
এ মামলায় এর আগে গত ২৮ এপ্রিল সাফিকুর রহমান জামিন পান। পরে ৩ মে অপর গৃহকর্মী রূপালী খাতুনকেও জামিন দেন আদালত। তবে বীথি ও সুফিয়ার জামিন আবেদন আদালত গ্রহণ করেননি।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের জুন মাসে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে রাজধানীর উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত সাফিকুর রহমানের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজের জন্য পাঠানো হয়। সেখানে কাজ করার সময় শিশুটিকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করতে দেওয়া হতো না বলে অভিযোগ রয়েছে।
শিশুটির বাবা চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি উত্তরা পশ্চিম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বীথি এবং দুই গৃহকর্মী রূপালী খাতুন ও সুফিয়া বেগমকে আসামি করা হয়। মামলার পরদিন রাতেই চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয় এবং বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, শিশুটিকে নিয়মিত মারধর করা হতো এবং গরম খুন্তি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদ থেকে সাফিকুর রহমানকে অপসারণ করা হয়।
