এমডি‘র আশ্বাসে কাজে ফিরেছে বিমানের পাইলটরা

শনিবারের মধ্যে বেতন সমন্বয়ের আশ্বাস দিয়েছেন বিমান এমডি- বাপা সভাপতি মাহবুব

বিমান এমডি (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) আবু সালেহ মোস্তফা কামালের আশ্বাসে কাজে ফিরেছেন বিমানের পাইলটরা। স্থগিত করেছেন ৭৫ ঘন্টার বেশি কাজ না করার আলটিমেটাম। বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পাইলট এসোসিয়েশনের (বাপা) সভাপতি ক্যাপ্টেন মাহবুবুর রহমান মঙ্গলবার রাতে  এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, আজ দুপুরে বিমান এমডির নেতৃত্বে বিমান ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে বাপা নেতাদের বৈঠক হয়েছে।

বৈঠকে সবাই পাইলটদের দাবির প্রতি একমত পোষন করেছেন। বিমান এমডি আগামী শনিবারের মধ্য ওভারসিস এলাউন্স নিয়ে তাদের যে বেতন বৈষম্য চলছে সেটি নিরসন করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। এই আশ্বাস পেয়ে পাইলটরা তাদের আলটিমেটাম স্থগিত করেছেন। তিনিও রাতে ফ্লাইটে যাচ্ছেন বলে জানান। এই অবস্থায় সোমবার বিমানের দুবাই, দোহা ও মাসকট ফ্লাইট নিয়ে যে সমস্যা হয়েছিল সেটির অবসান হবে বলে বাপা সভাপতি জানান।

বাপা সুত্রে জানাগেছে বর্তমানে বিমানের পাইলট সংখ্যা ১৫৭ জন। মাসে যদি একজন পাইলট সর্বোচ্চ ৭৫ ঘন্টা ডিউটি (ফ্লাই) করে তাহলে এই সংখ্যা পরের মাসে অর্ধেক হয়ে যাবে। এতে বিমানের অর্ধেকের বেশি ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাবে। এই অবস্থায় মঙ্গলবার বিমান ম্যানেজমেন্ট তড়িঘড়ি করে পাইলটদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে আগামী শনিবারের মধ্যে পাইলটদের সব ধরনের বেতন বৈষম্য নিরসনের আশ্বাস দেয়া হয়।

তবে এ প্রসঙ্গে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সালেহ মোস্তফা কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত সোমবার বাপা সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেছিলেন, মহামারীকালে বিমানে সবার বেতন কাটার সিদ্ধান্ত হয়েছিল; দেড় বছর বাদে অন্যদের আবার আগের মতো বেতন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও পাইলটদের ক্ষেত্রে তা হয়নি। এজন্য তিন মাস আগে পাইলটরা ধর্মঘটের হুমকি দিলেও বিমান কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে আন্দোলনে যায়নি।

মাহবুবুর বলেন, কিন্তু দুই মাসেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পাইলটরা এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাদের সঙ্গে বিমানের যে চুক্তি, সেটার বাইরে তারা কোনো কাজ করবে না। পাইলটরা জানান, বিমান ও বাপার মধ্যে সম্পাদিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী পাইলটদের মাসে ৭৫ ঘণ্টা ফ্লাই করার কথা এবং মাসে ৮ দিন ছুটি পাওয়ার কথা।

পাইলটরা জানান, তারা ‘ওভারসিজ অ্যালাউন্স’ নামে একটি ভাতা পেতেন, যা তাদের বেতনের ২০ শতাংশ। সেটা সম্পূণরুপে বন্ধ বলে মূলত তাদের বেতন ২৫ শতাংশের পরিবর্তে ৪৫ শতাংশ কাটা হচ্ছে। আর যাদের বেতন ৫ শতাংশ কাটা হবে, তাদের ক্ষেত্রেও সেটা ২৫ শতাংশে দাঁড়াবে।

 

 

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.