শাহজালালে কোটি টাকার হীরা ও স্বর্ণালংকার জব্দ
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক যাত্রীর কাছ থেকে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা আনুমানিক বাজারমূল্যের ডায়মন্ড, প্লাটিনাম, রুবি ও স্বর্ণালংকার আটক করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক যাত্রীর কাছ থেকে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা আনুমানিক বাজারমূল্যের ডায়মন্ড, প্লাটিনাম, রুবি ও স্বর্ণালংকার আটক করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম। আটক করা এসব পণ্যের মোট ওজন ১ হাজার ৫৪ গ্রাম। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট যাত্রীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রোববার, ১১ অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কলকাতা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৯৬ ফ্লাইটে ঢাকায় আসা এক যাত্রীর কাছ থেকে এসব মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম এবং বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনকারী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্ন স্থানে নজরদারি করছিলেন। এ সময় ওই যাত্রী ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষ করে ব্যাগেজ ঘোষণা ছাড়াই গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করছিলেন। সন্দেহ হওয়ায় তাঁর ব্যাগ স্ক্যান করা হয়।
স্ক্যানিংয়ে ব্যাগের ভেতরে আচারের বয়ামে ধাতবজাতীয় পদার্থের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। পরে ব্যাগেজ তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ মূল্যবান অলংকার ও বিভিন্ন ধরনের রত্নপাথর উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা পণ্যগুলো পরবর্তী সময়ে তালিকাভুক্ত করে জব্দ করা হয়।
আটক সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ডায়মন্ড পাথর সংযুক্ত ৩৮৯টি স্বর্ণের আংটি, যার ওজন ৪৭৮ গ্রাম। এ ছাড়া ৪৫০ গ্রাম ওজনের ১৫১টি প্লাটিনামের আংটি উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ডায়মন্ড পাথর সংযুক্ত সাদা স্বর্ণের অলংকার, রুপার আংটি, স্বর্ণের লকেট, চেইন ও নাকফুল জব্দ করা হয়।
এ ছাড়া উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৪৫ ক্যারেট ডায়মন্ড পাথর, পোখরাজ, রুবি এবং অন্যান্য মূল্যবান পাথর। অলংকারের সঙ্গে ২৩টি জুয়েলারি সার্টিফিকেট কার্ডও পাওয়া গেছে।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অলংকারের প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে জব্দ করা পণ্যগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট যাত্রীর বিরুদ্ধে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিমের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে পণ্যগুলো আনার উদ্দেশ্য এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের বিস্তারিত তথ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।
বিমানবন্দরে চোরাচালান প্রতিরোধে কাস্টমসের নজরদারি ও তল্লাশি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালিত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে।