বিএনপির আগামী শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশের দিন পাল্টা কর্মসূচি দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট। আর এ নিয়ে দীর্ঘদিন পর চট্টগ্রামের রাজনীতিতে উত্তেজনার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
এইদিন বেলা তিনটায় বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে নগরের আন্দরকিল্লা চত্বরে শান্তি সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ। ইতোমধ্যেই সমাবেশে আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের সমাবেশে উপস্থিত থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন।
তবে একে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ নয় জানিয়ে আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, আমাদের মিটিং-মিছিল আমরা করবো। এমন কোনো আইন নেই যে বিএনপি সমাবেশ ডাকলে আওয়ামী লীগ ডাকতে পারবে না বা একাধিক সমাবেশ করা যাবে না।
একই দিনে অতীতেও এ রকম সমাবেশ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি আন্দোলনের নামে গাড়ি পোড়াবে, মানুষ মারবে সেটা আমরা হতে দেব না।
যদি তারা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করে তাহলে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু তারা যদি সহিংসতার পথ বেছে নেয়, তাহলে চট্টগ্রামের রাজপথে বিএনপিকে ছাড় দেওয়া হবে না। নগর আওয়ামী লীগ সবসময় নৈরাজ্য ও অগ্নিসন্ত্রাস মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।
এদিকে বিএনপি জানিয়েছে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিএনপির ১০ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশ পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে সমাবেশের জন্য তিনটি স্থান নির্বাচন শেষে অনুমতি দেওয়ার জন্য গত ৩০ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মেট্রাপিলটন পুলিশের উপ কমিশনারকে (বিশেষ শাখা) লিখিতভাবে দলটির পক্ষ থেকে অবহিতও করা হয়েছে। সমাবেশ সফল করতে সমাবেশের সমন্বয়কারী নগর, জেলা ও উপজেলার বিএনপির নেতা-কর্মীরা সঙ্গে একাধিক সভা করেন । এছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় নেতা-কর্মীরা লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ শুরু করেন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশের সমন্বয়কারী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, ১০ দফা দাবিতে বিএনপি বেশ আগেই সারাদেশে বিভাগীয় সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে। সমাবেশ সফল করার জন্য প্রস্তুতি সভা, নিয়মিত লিফলেট বিতরণ ও প্রচার-প্রচারণাও চালানো হচ্ছে। আমাদের পক্ষ থেকে সমাবেশ আয়োজন করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
দুই দলের সমাবেশের বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপির) অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) স্পিনা রানী প্রামাণিক বলেন, আওয়ামী লীগ-বিএনপি সমাবেশ করলে আমাদের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য কাজ করে পুলিশ। সেইদিনও পুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই কাজ করবে।