ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের হ্যাঙ্গারে থাকা বিমানের একটি ড্রিমলাইন উড়োজাহাজ আঘাত লেগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গতকাল বুধবার হ্যাঙ্গারের শাটার নামানোর সময় সেখানে থাকা ড্রিমলাইন উড়োজাহাজের ডানায় আঘাত লাগে। বর্তমানে উড়োজাহাজটির মেরামত চলমান রয়েছে।
সূত্র জানায়, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবে ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজটি হ্যাঙ্গারে আনা হয়। হ্যাঙ্গারে শাটার নামানোর সময় শাটারের একটি অংশ সেই ড্রিমলাইনারের ডানায় আঘাত করে। পরবর্তীতে বিমানের চিফ ইঞ্জিনিয়ার (ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোডাকশন) এ আর এম কায়সার জামান ঘটনাস্থলে এসে ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজ পরিদর্শন করেন।
এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চিফ ইঞ্জিনিয়ার (ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোডাকশন) এ আর এম কায়সার জামান বলেন, খুবই মাইনর একটি দুর্ঘটনা। ওই উড়োজাহাজটি চেকের জন্য হ্যাঙ্গারে আনা হয়েছিল। হ্যাঙ্গারের গেট নামানোর সময় ম্যাজারমেন্ট বুঝতে না পারার কারণে উড়োজাহাজে লাগে। যদিও সাথে সাথে শাটার নামানো বন্ধ করা হয়। উড়োজাহাজটি পরীক্ষা শেষ হলে ফের ফ্লাইটে যাবে।
বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজের সংখ্যা ২১টি। এর মধ্যে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, চারটি বোয়িং ৭৮৭-৪, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯, ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এবং পাঁচটি ডিসি ৮-৪০০। বর্তমানে ১৯টি আন্তর্জাতিক এবং সাতটি অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে বিমানের ফ্লাইট চলছে।
এর আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুটি উড়োজাহাজের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুইজন প্রকৌশলীকে দায়ী করে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয় এয়ারলাইনটি। ২০২২ সালের ১০ এপ্রিল হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানের হ্যাঙ্গারে দুটি উড়োজাহাজের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এ ঘটনায় বরখাস্ত হন—প্রকৌশল কর্মকর্তা মো. মাইনুল ইসলাম(পি-৩৫৬১২) ও প্রকৌশল কর্মকর্তা মো. সেলিম হোসেন খান (পি-৩৭৩৭৮)।
ওইসময় বিমান হ্যাঙ্গার কমপ্লেক্সে বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর (S2-AHN) উড়োজাহাজটি হ্যাঙ্গারে প্রবেশ করানোর সময়ে নোস র্যাডম হ্যাঙ্গারে পূর্ব থেকে থাকা বোয়িং ৭৩৭-৮০০ (S2-AFL) এর পিছনের বাম পাশের হরিজ্যান্টাল স্ট্যাবিলাইজার-এর আউট বাউন্ড ট্রিপ-এ আঘাত করে। এতে বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর (S2-AHN) উড়োজাহাজের নোস র্যাডম-এর ভিতরের ফরোয়ার্ড প্রেশার বাল্কহেড এবং ৭৩৭-
৮০০ (S2-AFL) উড়োজাহাজের হরিজ্যান্টাল স্টাবিলাইজার-এর আউট বাউন্ড ট্রিপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
২০২২ সালের ৩ জুলাই একই রকম দুর্ঘটনা ঘটে। সেদিন সিঙ্গাপুর থেকে আসে বিমানের ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ। যাত্রী নামিয়ে রাত ৯টার দিকে উড়োজাহাজটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য হ্যাঙ্গারে নেওয়া হয়। সে সময় আগে থেকেই হ্যাঙ্গারে একটি ৭৩৭ উড়োজাহাজ ছিল। ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজটি ভেতরে প্রবেশ করানোর সময় ৭৩৭ উড়োজাহাজের ডানায় আঘাত লাগে। এতে ৭৮৭ উড়োজাহাজের ডান পাশের ডানা এবং ৭৩৭ উড়োজাহাজের বাম পাশের ডানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর এ কারণে সে সময় ৩ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিমান। তারা হলেন—মুখ্য প্রকৌশলী মো. হারুন-উর-রশিদ চৌধুরী, প্রকৌশল কর্মকর্তা শাহ হক নেওয়াজ এবং জুনিয়র টেকনিক্যাল কর্মকর্তা নুরুল আলম।
