প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ও ব্যর্থ নির্বাচন কমিশন বাতিলের দাবিতে নির্বাচন কমিশন কার্যালয় অভিমুখী গণমিছিলের ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আগামী ২১ জুন (বুধবার) সকাল ১০টায় এই কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম।
রোববার দুপুর ১২টায় রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন।
মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, দেশের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ আপনারা জানেন। দেশের মানুষের ভোটাধিকার হরণে ক্ষমতাসীনদের রাষ্ট্রীয় ও দলীয় সন্ত্রাসের কথাও নতুন নয়। গত ১২ জুন বরিশাল সিটি নির্বাচনে ঘটে যাওয়া হৃদয়বিদারক ঘটনা বিভিন্ন মাধ্যমে গোটা দেশবাসী অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করেছে। সরকারদলীয় সন্ত্রাসীরা কতটা নির্মম ও পৈশাচিকভাবে বাংলাদেশের একজন জননন্দিত আলেম ও বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদের ওপর দফায়-দফায় আক্রমণ করেছে, চরমভাবে আপমান অপদস্ত করেছে, শারীরিকভাবে আক্রমণ করে রক্তাক্ত করেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নিযুক্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ করেও মুফতি ফয়জুল করীম সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ দূরের কথা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তাটুকুও পাননি। ঘটনার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জনাব হাবিবুল আউয়াল অবিবেচক উন্মাদের মতো মুফতি ফয়জুল করীমের শরীর থেকে রক্তক্ষরণ নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ও উপহাস করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের পাল্টা প্রশ্ন করেছেন, ‘তিনি (মুফতি ফয়জুল করীম) কি ইন্তেকাল করেছেন’? একজন মানুষ কোন পর্যায়ের বিবেক বর্জিত হলে দেশের একজন সম্মানিত ব্যক্তির ব্যাপারে এ জাতীয় বক্তব্য দিতে পারেন, তা আমাদের ভাবতেও অবাক লাগে।
ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা বলেন, আমরা অবিলম্বে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হাবিবুল আউয়ালের পদত্যাগ চাই। তিনি পদত্যাগ করতে না চাইলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় দ্রুত তার অপসারণ চাই। মুফতি ফয়জুল করীমের ওপর আক্রমণকারী এবং তাকে অপমান অপদস্তকারী সন্ত্রাসী এবং ভোট ডাকাত ও দস্যুদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি। এমন অসভ্য ঘটনার পেছনে যারা রয়েছে সুষ্ঠু তদন্ত করে তাদের চিহ্নিত করার দাবি জানাচ্ছি।
এছাড়া আগামী ২৪ জুন শনিবার বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণ ও একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনের লক্ষ্যে করণীয় বিষয়ে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং দেশের শীর্ষ ওলামা মাশায়েখ, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজনের ঘোষণা দেন তিনি।