‘সময়সূচি মেনে চলা ও উন্নত যাত্রী সেবার কথা শুনে বাংলাদেশ বিমানের পরিবর্তে সৌদি এয়ারলাইন্সে করেই হজে গিয়েছিলাম। কিন্তু এই এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ ফেরত আসা হাজিদের সঙ্গে যে ব্যবহার করেছে তা এ জীবনে ভুলবো না। সময় সূচি তো মানেইনি, এমনকি ফ্লাইটে পানি চেয়েও পাইনি।’
মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এভাবেই ক্ষোভ জানাচ্ছিলেন সৌদি আরব থেকে সদ্য হজ শেষে ফেরত আসা হাজি রফিক উদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, জেদ্দা বিমানবন্দর থেকেই আমরা নাজেহাল হতে শুরু করেছি। বাংলাদেশিদের মানুষ বলেই গণ্য করে না সৌদি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। প্রায় নয় ঘণ্টা অপেক্ষার পর প্লেনে উঠতে পারি আমরা। এরপরে আরও এক ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ে সৌদি এয়ারলাইন্সের প্লেন। কিন্তু সেখানেও ক্রুদের কাছে অপমান অপদস্ত হতে হয় হাজিদের। বয়স্ক হাজিরাও বাদ যাননি তাদের অবহেলা থেকে।
গাজীপুরের এই আইনজীবী বলেন, দীর্ঘ যাত্রায় আমি নিজে কয়েকবার এয়ার হোস্টেসদের কাছে খাবার পানি চেয়েছি। কিন্তু তারা আমার কথা কানেই নেয়নি। বারবার বলেছে, পরে দিচ্ছি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, অসুস্থ রোগীদের সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করে ক্রুরা। এমনকি একজনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলেও দেয় তারা। মালামাল নেওয়ার ক্ষেত্রে সৌদি এয়ারলাইন্স হাজিদের সঙ্গে নিষ্ঠুরতম আচরণ করে।
এ বিষয়ে রফিক উদ্দিন বলেন, অতিরিক্ত কোনো মালামালই কোনো হাজীকে নিতে দেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, ফেলে দেওয়ার আগে কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস হাত ব্যাগে নিতে চাইলেও তার অনুমতি মেলেনি।
একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায় হাজি আবদুস সাত্তারের কাছেও। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিমান হাজিদের মালামাল তাদের
বাসা থেকেই সংগ্রহ করেছে। অথচ আমরা যারা সৌদি এয়ারের যাত্রী ছিলাম তাদের নিজেদেরই মালামাল বিমানবন্দর পর্যেন্ত আনতে হয়েছে। শুধু তাই-ই নয়, সেসব মালামালের একটি বিরাট অংশ বিমানবন্দরেই ফেলে আসতে হয়েছে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কঠোরতায়। কোনো রকম ছাড় দিতে তারা রাজি নয়।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বাংলাদেশ বিমানে টিকিট না করার আক্ষেপ করতে হয়েছে সৌদিতে এসে। এরা মানুষ হিসেবে সাধারণ সম্মানটুকু হাজিদের করেনি।
তবে সৌদি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ঢাকা ফেরত আসা একাধিক হাজী জানান, খুব বেশি ঝামেলা পোহাতে হয়নি তাদের।
এবছর বাংলাদেশ থেকে এক লাখ এক হাজার ৭শ ৫৮ জন বাংলাদেশি হজে গেছেন। এখন দেশে ফিরছেন হাজিরা।