গাজায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মধ্যস্ততাকারী দেশগুলোর দেয়া প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে হামাস। তবে ইসরায়েল বলেছে, এ প্রস্তাব তাদের মৌলিক দাবিগুলোকে পূরণ করে না এবং তারা এখনো রাফায় অভিযান চালানোর বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
আজ মঙ্গলবার (৭ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
গাজায় সাত মাস ধরে চলমান যুদ্ধ সম্প্রতি আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করে যখন ইসরায়েল গাজার রাফা অঞ্চল আক্রমণ করে এবং বাসিন্দাদের শহরের কিছু অংশ ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।
হামাস এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলেছে, হামাস যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গ্রহণ করেছে বলে প্রধান নেতা ইসমাইল হানিয়াহ কাতারি এবং মিসরীয় মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছেন।
তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় বলেছে, যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবটিতে ইসরায়েলের দাবি পূরণ হয়নি। ফলে গাজায় যুদ্ধবিরতি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, তাদের প্রতিনিধি দল ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা পুনরায় শুরু করতে মঙ্গলবার কায়রো যাবে।
এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানায়, নেতানিয়াহুর যুদ্ধকালীন মন্ত্রীসভা রাফাতে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার অনুমোদন দিয়েছে।
জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি সোশ্যাল মিডিয়া সাইট এক্স এ বলেছেন, নেতানিয়াহু রাফাতে বোমা হামলা করে যুদ্ধবিরতিকে বিঘ্নিত করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেছেন, হামাস যে প্রস্তাবটি অনুমোদন করেছে তা মিসরীয় প্রস্তাবের তুলনায় খুবই দুর্বল এবং এতে এমন কিছু উপাদান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা ইসরায়েল গ্রহণ করতে পারে না।
ইসরায়েলি ওই কর্মকর্তা বলেছেন, ইসরায়েলকে চুক্তি প্রত্যাখ্যানকারী পক্ষ হিসেবে দেখানোর উদ্দেশ্যে এই প্রস্তাবটি একটি চালাকি বলে মনে হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, ওয়াশিংটন তার মিত্রদের সঙ্গে হামাসের প্রতিক্রিয়া নিয়ে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আলোচনা করবে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবরের পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েল-গাজা সংঘাতে ইসরায়েলি হামলায় ৩৪ হাজার ৬০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে প্রায় ৭৭ হাজার ফিলিস্তিনি।
