খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে সৌদি আরবে হজ অফিস

hajj20160927135007হাতেগোনা মাত্র ৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে সৌদি আরবে বাংলাদেশ হজ অফিস। প্রতি বছর হজ মৌসুমে লক্ষাধিক ও সারা বছর অর্ধ লক্ষাধিক ওমরাহকারীসহ দেড় লক্ষাধিক বাংলাদেশিকে সুষ্ঠুভাবে হজ পালনের গুরুদায়িত্ব এ অফিসের ওপর নির্ভরশীল হলেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবলের অভাবে কাঙ্ক্ষিত মানের সেবা প্রদান করা সম্ভব হয় না।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, এত সীমিত সংখ্যক জনবল দিয়ে হজযাত্রীদের ন্যূনতম সেবা প্রদান করা প্রায় অসম্ভব। হজ অফিসকে হজযাত্রীদের সেবাপ্রদান ছাড়াও অন্যান্য দাফতরিক কার্যক্রমও করতে হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে কর্মরত জনবলের মধ্যে কাউন্সিলর হজ একজন, কনসাল হজ একজন, উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক একজন, টাইপিস্ট কাম ইন্টারপ্রেটর একজন, কেয়ারটেকার তিনজন এবং গাড়িচালক একজন।

সাবেক কাউন্সিলর (হজ) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বিভিন্ন সময় সৌদি আরবে হজ অফিসের কাজের বর্ণনা, কাজ বৃদ্ধির পরিমাণ ও কারণ জানিয়ে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে হজযাত্রীর সংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জনবল কাঠামো নির্ধারণ জরুরি উল্লেখ করে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে জানালেও প্রস্তাবনা অনুযায়ী জনবল এখনো নিয়োগ হয়নি।

চলতি বছরের মার্চে লেখা এক চিঠিতে বলা হয়, হজ মুসলমানদের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম একটি স্তম্ভ। প্রতি বছর পবিত্র হজব্রত পালনের জন্য বাংলাদেশ হতে বিপুলসংখ্যক হজযাত্রী সৌদি আরব আগমন করে। এ সংখ্যা প্রতি বছর বেড়েই চলেছে। ১৯৯৪ সালে হজযাত্রীর সংখ্যা যেখানে মাত্র ১৬ হাজার ছিল, সেখানে চলতি বছর লক্ষাধিক বাংলাদেশি হজ পালন করেছেন। ২০১২ সালে সর্বোচ্চ প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার ৭৯২ জন হজ পালন করেন।

চিঠিতে বলা হয়, বিপুলসংখ্যক হজযাত্রীর সেবার মান বৃদ্ধির জন্য হজ অফিসের স্বদেশভিত্তিক জনবল একজনও বৃদ্ধি করা হয়নি। সৌদি আরব হাজিদের আল্লাহর ঘরের মেহমান গণ্য করে প্রতি বছর নতুন নতুন কার্যক্রম গ্রহণ করলেও জনবলের অভাবে বাংলাদেশি হাজিদের কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদান করা যাচ্ছে না বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.