এক দশক পর চীনে ফিরছে বোয়িং, ২০০ বিমানের অর্ডার

বোয়িং (Boeing) প্রায় এক দশক পর চীনের বাজারে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেছে

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নির্মাতা কোম্পানি বোয়িং (Boeing) প্রায় এক দশক পর চীনের বাজারে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর ঘোষণা আসে যে, চীন ২০০টি বোয়িং বিমান কেনার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এই চুক্তিকে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক পুনরায় স্বাভাবিক করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের জানান, চীন শুধু ২০০টি বিমান কেনার চুক্তিই করেনি, বরং ভবিষ্যতে আরও ৭৫০টি বোয়িং বিমান কেনার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রেখেছে। বোয়িং কোম্পানি পরে এই ২০০টি বিমানের অর্ডার নিশ্চিত করলেও কোন ধরনের বিমান (যেমন 737 বা 787) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি।

বোয়িং এক বিবৃতিতে জানায়, “আমরা চীনের বিমান চাহিদা পূরণে আবারও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী এবং এটি আমাদের জন্য একটি বড় বাজার পুনরুদ্ধারের সুযোগ।” কোম্পানিটি আরও জানায়, এই চুক্তি তাদের দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক বিক্রয় কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বোয়িংয়ের সিইও কেলি অর্টবার্গসহ বেশ কয়েকজন মার্কিন শীর্ষ নির্বাহী ট্রাম্পের সঙ্গে চীন সফরে ছিলেন। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের জন্য নতুন বাজার তৈরি করা এবং বিশেষ করে এয়ারক্রাফট শিল্পকে চীনের বাজারে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করা।

ট্রাম্প আরও জানান, এই চুক্তির ফলে জেনারেল ইলেকট্রিক (GE) কোম্পানিও লাভবান হবে, কারণ চীনের জন্য প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০টি বিমান ইঞ্জিন সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও GE এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

বোয়িংয়ের জন্য চীনের বাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ২০১০-এর দশকে কোম্পানিটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ন্যারোবডি বিমান চীনে রপ্তানি হতো। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের অবনতি এবং বাণিজ্য উত্তেজনার কারণে সেই বাজার প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

এছাড়া ২০১৯ সালে বোয়িং 737 ম্যাক্স বিমানের দুটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর চীন প্রথম দেশগুলোর মধ্যে ছিল যারা এই মডেলটি গ্রাউন্ডেড করে। ফলে বোয়িংয়ের চীনা বাজার আরও সংকুচিত হয়ে পড়ে। পরে ২০২৩ সালে চীন ধীরে ধীরে আবার এই মডেলের বিমান চালু করে।

বোয়িং কোম্পানি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে, বিশেষ করে উৎপাদন ও নিরাপত্তা মান নিয়ে সমালোচনার কারণে। ২০২৪ সালে নতুন সিইও কেলি অর্টবার্গ দায়িত্ব নেওয়ার পর কোম্পানিটি আন্তর্জাতিক বাজার পুনরুদ্ধারের ওপর জোর দেয়।

এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের সময় মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বড় বড় বিমান চুক্তি হয়েছিল। কাতার এয়ারওয়েজ, সৌদি আরব, দক্ষিণ কোরিয়া এবং তুরস্কের মতো দেশগুলো বোয়িংয়ের শত শত বিমান কেনার ঘোষণা দেয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের সঙ্গে এই নতুন চুক্তি বোয়িংয়ের জন্য একটি বড় “কৌশলগত বিজয়”, যা কোম্পানির উৎপাদন ও আর্থিক অবস্থার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র-চীন রাজনৈতিক সম্পর্ক এখনও অনিশ্চিত থাকায় এই চুক্তির বাস্তবায়ন ও ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি সম্পূর্ণ স্থিতিশীল নয়।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.