সাইপ্রাস ফ্লাইটে ভাড়া বেড়েছে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত
সাইপ্রাসে গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণে বিমান ভাড়া হঠাৎ করেই অনেক বেড়ে গেছে।
সাইপ্রাসে গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণে বিমান ভাড়া হঠাৎ করেই অনেক বেড়ে গেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির সংকটের কারণে জেট ফুয়েলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে কমে যাওয়া ফ্লাইট সংখ্যা এবং বাড়তি মৌসুমি চাহিদা যুক্ত হয়ে ইউরোপের বিভিন্ন রুটে টিকিটের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের তুলনায় গ্রিসগামী কিছু রুটে বিমান ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এতে প্রতিটি টিকিটে যাত্রীদের অতিরিক্ত ১০০ থেকে ১২০ ইউরো পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। সাইপ্রাসের উপ-পর্যটনমন্ত্রী কস্তাস কৌমিস জানিয়েছেন, ইউরোপের বাইরের গন্তব্যে গড়ে ৮৮ ইউরো এবং ইউরোপের অভ্যন্তরীণ রুটে প্রায় ২৯ ইউরো পর্যন্ত ভাড়া বেড়েছে।
সাইপ্রাস অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিস্ট এজেন্টসের সভাপতি হারিস পাপাচারালামবোস বলেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব শুধু সাইপ্রাস নয়, বিশ্বের প্রায় সব গন্তব্যেই পড়েছে। তিনি জানান, “এটি মূলত সরবরাহ ও চাহিদার বিষয়। ফুয়েলের বাড়তি খরচ সব এয়ারলাইনের ওপরই চাপ সৃষ্টি করছে।”
তিনি আরও বলেন, এথেন্স সাইপ্রাসের যাত্রীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হাব হওয়ায় এই রুটে চাপ বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেক এয়ারলাইন আগের তুলনায় ফ্লাইট সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে। যেখানে আগে কোনো রুটে দিনে পাঁচটি ফ্লাইট চলত, এখন তা কমে তিনটিতে নেমে এসেছে। এর ফলে আসনসংখ্যা কমে গিয়ে টিকিটের দাম আরও বেড়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে ইউরোপের বিমান খাতে যে অস্থিরতা চলছে, তার বড় কারণ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ পরিবহন হয়। সেখানে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় জেট ফুয়েলের দাম বেড়ে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে এয়ারলাইনগুলোর পরিচালন ব্যয়ে।
আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা আইএটিএর মহাপরিচালক উইলি ওয়ালশ বলেছেন, এয়ারলাইনগুলো দীর্ঘ সময় বাড়তি জ্বালানি খরচ নিজেদের ওপর বহন করতে পারবে না। ফলে ধীরে ধীরে এই অতিরিক্ত ব্যয় যাত্রীদের ওপর চাপানো হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “হরমুজ প্রণালির সংকট দ্রুত শেষ হলেও এর প্রভাব আগামী কয়েক মাস, এমনকি পরের বছর পর্যন্তও থাকতে পারে।”
এদিকে ইউরোপীয় কমিশন জ্বালানি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে একটি বিশেষ “ফুয়েল অবজারভেটরি” গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এর মাধ্যমে ইউরোপজুড়ে জ্বালানি উৎপাদন, আমদানি, মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি বিমান চলাচলে জ্বালানি সংকটের কারণে সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্ব মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে কমিশন।
ভ্রমণ বিশেষজ্ঞরা যাত্রীদের যত দ্রুত সম্ভব টিকিট বুক করার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলছেন, সময় যত গড়াবে, চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাড়াও আরও বাড়তে পারে। এছাড়া সপ্তাহের মাঝামাঝি ভ্রমণ করলে তুলনামূলক কম দামে টিকিট পাওয়া যেতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, হরমুজ সংকট শুধু জ্বালানি বাজার নয়, বৈশ্বিক বিমান পরিবহন খাতেও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের উদ্বেগও বাড়ছে।
