অন্তর্বর্তী সরকারের তিন কর্মকর্তা এখন বিমানের পরিচালক
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স–এর পরিচালনা পর্ষদে অন্তর্বর্তী সরকারের তিন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ
রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স–এর পরিচালনা পর্ষদে অন্তর্বর্তী সরকারের তিন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তারা হলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমদ। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক গেজেট প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনস্বার্থে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।
এর আগে সরকার বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন–কে বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়। নতুন এই নিয়োগের ফলে দেশের জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইনটির পরিচালনা পর্ষদে প্রশাসনের প্রভাব আরও জোরালো হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ পর্যায়ে এসে একসঙ্গে তিনজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার অন্তর্ভুক্তি বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এভিয়েশন বিশ্লেষক কাজী ওয়াহিদুল আলম এ বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক কৌশলগত পরিকল্পনা থাকতে পারে। তার মতে, আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Boeing–এর সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করাও এর একটি বড় উদ্দেশ্য হতে পারে। কারণ ভবিষ্যতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে এবং সে ক্ষেত্রে বোয়িংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় এয়ারলাইনটির সামনে এখন বহর আধুনিকায়ন, সেবার মান উন্নয়ন, রুট সম্প্রসারণ এবং আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এ অবস্থায় পরিচালনা পর্ষদে প্রশাসনের অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি সরকারের কৌশলগত সিদ্ধান্তের অংশ হতে পারে। তবে একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, এই নিয়োগগুলো কতটা পেশাদার দক্ষতার ভিত্তিতে হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এর প্রভাব বিমানের সামগ্রিক পরিচালনায় কীভাবে পড়বে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার পাশাপাশি দেশের বিমান খাতেও দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। তাই নতুন পরিচালনা পর্ষদের ওপর জাতীয় এয়ারলাইনটিকে আরও কার্যকর, লাভজনক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার দায়িত্ব অনেকটাই নির্ভর করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
