ট্রলি ক্রয়ে মন্ত্রীর নির্দেশনা মানছে না বেবিচক

শাহজালালে ট্রলির জন্য হাহাকার

ট্রলির জন্য হাহাকার শাহজালালে, কেনার নির্দেশনা মন্ত্রি দিলেও মানেনি বেবিচক

নিজস্ব প্রতিবেদক : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ বহনে ট্রলির জন্য চলছে হাহাকার। ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না ট্রলি। একদিকে চলছে ফিরতি হজ ফ্লাইট অন্যদিকে রেগুলার ফ্লাইট। এতে করে ট্রলির জন্য হাহাকার লেগেছে। সময়মত ট্রলি না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন হাজি থেকে শুরু করে সাধারণ যাত্রীরা। তারা বলছেন, পর‌্যাপ্ত ট্রলির ব্যবস্থা করতে পারেনি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। যার কারণে ফ্লাইট থেকে নামার পর ২/৩ ঘন্টা লেগে যাচ্ছে লাগেজ নিয়ে বের হতে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই শাহজালাল বিমানবন্দরে ট্রলি সঙ্কট চলে আসছে। এক সঙ্গে ২/৩ টি ফ্লাইট অবতরণ করলেই যাত্রীরা আর ট্রলি পায়না। বেল্ট থেকে লাগেজ সংগ্রহ করে তা ট্রলিতে করে নিয়ে বের হতে হতে ২/৩ ঘন্টা সময় লেগে যায়।

বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর আসার পর বিমান ও পর‌্যটন মন্ত্রণালয় গুরুত্ব দিয়ে ট্রলি ও মশা মারার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেয়। ওই নির্দেশে সামনে হজের মৌসুমে ট্রলির কোনরুপ যেন সঙ্কট না হয় বিষয়েও নির্দেশনা দেয়া হয়।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা আসার পর বেবিচকের কেনাকাটা দপ্তর থেকে ৫০০টি ট্রলি কেনার জন্য একটি প্রস্তাবনা অনুমোদনের জন্য সদরদপ্তরে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু বেবিচকের সদস্য (অপারেশনস) মেহবুব খান ট্রলি কেনার প্রস্তাবনা বাতিল করে দেন।

জানা যায়, বর্তমানে এই সঙ্কট তীব্র হওয়ায় বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে ট্রলি সংগ্রহ করে শাহজালালে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বেবিচকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা বলেন, যেখানে শত কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে সেখানে ৫০০টি ট্রলি কিনতে আর কত টাকাই লাগতো। অথচ এই ট্রলি থাকলে হাজিদের বা সাধারণ যাত্রীদের ট্রলির জন্য হাহাকার পড়তো না।

এই ট্রলি কেনার জন্য মন্ত্রণালয় থেকেও নির্দেশনা ছিল। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মানেনি উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এখন যেহেতু ট্রলির তীব্র সঙ্কট শুরু হয়েছে, হাজিরা বিমানবন্দরে নেমে এ অব্যবস্থাপনা দেখে তা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধমে প্রচার করছে তখনই টনক নড়ছে তাদের। এখন এত অল্প সময়ে যেহেতু কেনা সম্ভব না সেহেতু অন্য বিমানবন্দর থেকে ট্রলি আনা হচ্ছে।

তারা বলছেন, এগুলো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এক ধরনের খামখেয়ালীপনা। মন্ত্রি, প্রতিমন্ত্রি যেখানে নির্দেশ দিয়েছেন আর সঙ্কটও তীব্র হচ্ছে সেখানে ট্রলি কিনতে সমস্যা কোথায় ?তাদের খামখেয়ালীপনার কারনেই বিমানবন্দরের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে, কর্মকর্তারা অপমানিত হচ্ছেন।

এদিকে আনসার আলী নামের হাজি বলেন, আমরা খুব সুন্দরভাবে গিয়েছিলাম, সেখানেও হজও সম্পন্ন করেছি। কিন্তু ফেরার পর বিমানবন্দরেই ৩ ঘন্টা আটকে গেলাম। ট্রলি নিতে সিরিয়াল ধরতে হয়েছে। এক পর‌্যায়ে ট্রলি শেষ হওয়ায় ওই সিরিয়াল ধরে আরো অপেক্ষা করতে হলো। অবশেষে ঘন্টা তিনেক পরে বের হতে পারেলাম।

তিনি বলেন, এটা কোন ব্যবস্থাপনা হতে পারেনা। সামান্য ট্রলির কেন সঙ্কট থাকবে। এটা কিনতে তো আর শত কোটি টাকা লাগেনা। তাহলে কেন এটার সঙ্কট থাকবে।

ওসমান গনি নামের আরেক হাজি বলেন, সামান্য এই ছোট বিষয় নিয়ে কেন আমাদের বা যাত্রীদের এত কষ্ট দিতে হবে। ট্রলি কেন থাকবেনা। ট্রলির এই সঙ্কটে আমাদের দেশের জন্য কি ভালো বার্তা দিচ্ছে?

তিনি বলেন, আমার লাইনে তো কয়েকজন বিদেশিও ছিল। তারা আমাদের দেশ নিয়ে কি বার্তা পেল। ট্রলির অব্যবস্থাপনার জন্য যারা দায়ি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ বলেন, একসঙ্গে অনেক ফ্লাইট নামলে যাত্রীর সংখ্যা বেশি হয়ে যায়। ঠিক সেই সময়ে ট্রলির ঘাটতি পড়ে যায়। এতে করে সমস্যার মধ্যে আমরা পড়ে যায়।

তিনি বলেন, এই সঙ্কট কাটানোর জন্য আমরা ইতিমধ্যে সিলেট ও চট্রগ্রাম থেকে ২৫০টি ট্রলি এনেছি। এগুলো আজ বুধবার ( ৩ জুন) যোগ করা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ট্রলি কেনার প্রক্রিয়াটি বাতিল হয়নি, চলমান রয়েছে।

আইএ/

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN