হজ্জ ক্যাম্পে প্রবাসীদের জন্য ১০০ শয্যার আবাসন
রাজধানীর আশকোনায় অবস্থিত হজ্জ ক্যাম্পে ১০০ শয্যার পৃথক আবাসন ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
বিদেশগামী প্রবাসী কর্মীদের জরুরি প্রয়োজনে নিরাপদ অবস্থান ও রাত্রিযাপনের সুবিধা নিশ্চিত করতে রাজধানীর আশকোনায় অবস্থিত হজ্জ ক্যাম্পে ১০০ শয্যার পৃথক আবাসন ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ফ্লাইট বিলম্ব বা বাতিলের কারণে বিমানবন্দরে আটকে পড়া প্রবাসীদের দুর্ভোগ কমাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
রোববার (২৬ জুলাই) সকালে হজ্জ ক্যাম্প পরিদর্শনকালে মন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। পরে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা, ধর্মমন্ত্রীর প্রস্তাব এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ আবাসন সুবিধা বাস্তবায়ন করা হবে।
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় পরিচালিত ‘ওয়েজ আর্নার্স সেন্টার’-এ ৪৯ জনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যা বিবেচনায় এই সক্ষমতা পর্যাপ্ত নয়। বিশেষ করে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বৈরী আবহাওয়া বা অন্যান্য অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে ফ্লাইট বাতিল কিংবা দীর্ঘ সময় বিলম্বিত হলে অনেক প্রবাসী বিমানবন্দর এলাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
তিনি জানান, নতুন পরিকল্পনার আওতায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি অবস্থিত হজ্জ ক্যাম্পে অতিরিক্ত ১০০টি শয্যার ব্যবস্থা করা হবে। এর মধ্যে পুরুষ প্রবাসীদের জন্য ৫০টি এবং নারী প্রবাসীদের জন্য পৃথক ৫০টি শয্যা থাকবে। আবাসন ব্যবস্থাটি এমনভাবে গড়ে তোলা হবে যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে প্রবাসীরা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে অবস্থান করতে পারেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, এই প্রকল্পের সম্পূর্ণ অর্থায়ন করবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ‘ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড’। এতে সরকারি অর্থের পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ তহবিলের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং বিদেশগামী কর্মীদের জন্য একটি মানবিক সহায়তা কাঠামো গড়ে উঠবে।
বর্তমান সরকারের প্রবাসীবান্ধব নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার সবসময় প্রবাসীদের কল্যাণে কাজ করছে। বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা, আবাসনের অভাব কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপদ আশ্রয়ের সংকট দূর করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন আবাসন সুবিধা চালু হলে প্রবাসীরা ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষার সময় আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশে থাকতে পারবেন।
হজ্জ ক্যাম্প পরিদর্শনকালে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং হজ্জ ক্যাম্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন এই আবাসন ব্যবস্থা চালু হলে বিদেশগামী শ্রমিক ও প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা অনেকটাই সমাধান হবে এবং বিমানবন্দরকেন্দ্রিক সেবার মান আরও উন্নত হবে।