ইরানের হামলার পর আবারও চালু কুয়েতের আকাশপথ
ইরানের হামলার জেরে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া কুয়েতের আকাশসীমা আবারও উন্মুক্ত
ইরানের হামলার জেরে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া কুয়েতের আকাশসীমা আবারও উন্মুক্ত করা হয়েছে এবং স্বাভাবিক বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদফতর এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় কুয়েত কর্তৃপক্ষ আগে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেশের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছিল।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আকাশসীমা বন্ধ থাকার সময় কুয়েতের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা কুয়েত এয়ারওয়েজ এবং বেসরকারি বিমান সংস্থা জাজিরা এয়ারওয়েজের অন্তত ১১টি ফ্লাইটের রুট পরিবর্তন করা হয়। এসব ফ্লাইটকে নিরাপত্তার স্বার্থে নিকটবর্তী বিভিন্ন বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়েছিল। ফলে কয়েক ঘণ্টার জন্য যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
কুয়েতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্ভাব্য শত্রুপক্ষীয় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকি মোকাবিলায় সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পর ঝুঁকি কমে আসায় পুনরায় আকাশসীমা খুলে দেওয়া হয় এবং বিমান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বিরোধ। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির দাবি, কেশম দ্বীপের একটি টেলিযোগাযোগ বন্দর এবং সিরিকের একটি বন্দরে মার্কিন বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরান কুয়েতে অবস্থিত দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে।
যদিও এসব হামলার ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে এখনো স্বাধীনভাবে সব তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবে ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে উদ্বেগের মুখে ফেলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষ করে কুয়েত, বাহরাইন, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো আন্তর্জাতিক ট্রানজিট ও বিমান যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হওয়ায় এসব অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হলে বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচল ব্যবস্থাও চাপের মুখে পড়ে।
তবে কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই বিমান চলাচল পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেকোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
